রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সিউলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৯, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

সিউলে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি

ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। আল জাজিরা এবং ম্যানচেস্টার সিটির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের নতুন কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে এশিয়ান প্রীতি সফর দারুণ এক জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ করেছে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এই দল। পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে এই জয় তুলে নেয় ইংলিশ ক্লাবটি।

সিউলের বিশ্ব কাপ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদ এগিয়ে গিয়েছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় সিটি রক্ষণভাগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আতলেতিকোর তরুণ ডিফেন্ডার জর্জ দোমিঙ্গেজ ক্লোজ রেঞ্জ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ম্যানচেস্টার সিটি।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইংলিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ফরোয়ার্ড আন্তোইন সেমেনিয়ো দারুণ দক্ষতায় বল বাঁচিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সে পাস বাড়ান। সেই পাস থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মিসরের তারকা ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। এর ঠিক দুই মিনিট পর ৫৯ মিনিটে আবারও একই জুটির চমৎকার বোঝাপড়ায় গোল পায় সিটি। সেমেনিয়োর বাড়ানো বল থেকে আবারও গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মারমুশ। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ জুড়ে সিটির বল পজিশন এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল কৌশল বেশ প্রশংসিত হয়েছে। নতুন কোচ এনজো মারেস্কা আসার পর দলের কৌশলগত পরিবর্তনে উইঙ্গারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাভিনিয়ো এবং আন্তোইন সেমেনিয়ো পুরো মাঠজুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বেশ চাপ সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে সেমেনিয়োর গতি এবং ড্রিবলিং ক্ষমতা ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। মাঝমাঠে তিজানি রেইজেন্দার্স এবং মাতেও কোভাচিচের চমৎকার বোঝাপড়াও সিটির জয়ের পথ সুগম করেছিল।

ম্যাচের বাকি সময়টায় দুই দলই বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক হয় দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা লি কান ইনের। স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসের মাঝে তিনি গোলের একটি দারুণ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে সিটির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন রায়ান আইত-নুরি। দিবিন মুবামার বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।

এই জয়ের ফলে এশিয়ার মাটিতে প্রীতি ম্যাচের সফর সফলভাবে সম্পন্ন করল ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিপূর্বে হংকংয়ে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ড্র করার পর টাইব্রেকারে হেরে গেলেও দক্ষিণ কোরিয়ায় কে লিগ অলস্টার একাদশকে পরাজিত করেছিল তারা। আগামী সপ্তাহে কারডিফে কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচে বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি। কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে নতুন মৌসুমের আনুষ্ঠানিক শুরুর আগের এই জয় দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। যা কম স্পষ্ট তা হলো, প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমে এই দল ঠিক কতদূর নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে।

banner
Link copied!