রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুবাই থেকে ডাবলিনে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে ড্যানিয়েল কিনাহানকে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

দুবাই থেকে ডাবলিনে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে ড্যানিয়েল কিনাহানকে

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আয়ারল্যান্ডে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে সন্দেহভাজন শীর্ষ অপরাধী চক্রের প্রধান ড্যানিয়েল কিনাহানকে। রবিবার দুবাই থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আইরিশ সরকারের বিশেষ বিমানে তাকে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সংগঠন পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

৪৯ বছর বয়সী ড্যানিয়েল কিনাহানকে গত এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে দুবাই থেকে আয়ারল্যান্ড সরকারের একটি বিশেষ বিমান তাকে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার আগেই ডাবলিনের ক্যাসমেন্ট অ্যারোড্রোমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।

ডাবলিনে পৌঁছানোর পরপরই কিনাহানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হবে বলে আইরিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এরপর তাকে স্পেশাল ক্রিমিনাল কোর্টে ৩ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবিহীন বিশেষ বেঞ্চের সামনে হাজির করবে আইরিশ পুলিশ, যাদের স্থানীয়ভাবে গার্ডা বলা হয়। শীর্ষ এই অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনা ঘিরে ডাবলিনজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইরিশ প্রিজন সার্ভিস এই প্রত্যর্পণের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই উচ্চ প্রযুক্তির বুলেটপ্রুফ এবং বোমাপ্রুফ ভ্যান কিনেছে, যা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বন্দিদের পাহারার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

রবিবারের এই বিশাল নিরাপত্তা অভিযানে সশস্ত্র আইরিশ পুলিশ এবং আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রিজন সার্ভিসের কর্মকর্তারাও সরাসরি যুক্ত থাকবেন। প্রত্যর্পণের পর তাকে কাউন্টি লাইশ এলাকার পোর্টলাউস কারাগারে কড়া পাহারায় রাখা হবে। এই বন্দিকে রাখার জন্য ওই কারাগারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থাগুলো আগে থেকেই আরও উন্নত করা হয়েছে।

আইরিশ কর্তৃপক্ষ ছাড়াও কিনাহান আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এর আগে কিনাহান কার্টেলকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর অপরাধী চক্র হিসেবে বর্ণনা করেছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে কিনাহান এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের এই আন্তর্জাতিক চক্রের শীর্ষ নেতা হিসেবে শনাক্ত করে তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন সরকার।

আয়ারল্যান্ডে দীর্ঘদিনের গ্যাং যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল কিনাহানের অপরাধী চক্র। আয়ারল্যান্ডের অপরাধ জগতের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ওই সংঘাতে অন্তত ১৮ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। ২০১৬ সালে ডাবলিনের একটি হোটেলে বক্সিংয়ের ওজন মাপার অনুষ্ঠানের সময় কিনাহান নিজেই ভয়াবহ হত্যাচেষ্টার শিকার হন। সেই গোলাগুলি থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়ার পর তিনি আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে পালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের শহর দুবাইয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আইরিশ আদালত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তাকে আটক করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে তিনি এই প্রত্যর্পণ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কার্যকর থাকা একটি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। রবিবার উভয় দেশের বিচার মন্ত্রীরা কিনাহানের প্রত্যর্পণকে স্বাগত জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। আইরিশ বিচার মন্ত্রী জিম ও ক্যালাঘান এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে বিচার বিভাগীয় সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি পুরো প্রক্রিয়ায় আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একই বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচার মন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন সুলতান বিন আওয়াদ আল নুয়াইমি জানিয়েছেন, এই প্রত্যর্পণ আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রকে প্রতিহত করতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন।

এর আগে এই একই প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কিনাহান অপরাধী চক্রের অন্যতম শীর্ষ সহযোগী শন ম্যাকগভর্নকে দুবাই থেকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। একটি অপরাধমূলক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে গত জুনে তাকে ২৪ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ড্যানিয়েল কিনাহানের নেতৃত্বাধীন এই চক্রটি বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল। যা কম স্পষ্ট তা হলো, ড্যানিয়েল কিনাহানকে প্রত্যর্পণের পর এই কার্টেলের বাকি শীর্ষ নেতাদের ধরতে আন্তর্জাতিক মহল আর কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

banner
Link copied!