বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মার্কিন অস্ত্রের মজুত তলানিতে: ফাঁসকারীদের খুঁজছেন ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

মার্কিন অস্ত্রের মজুত তলানিতে: ফাঁসকারীদের খুঁজছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অত্যন্ত জোরালো ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় ফুরিয়ে আসার খবর যারা গণমাধ্যমে ফাঁস করেছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আল জাজিরা এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। গোপন এই সামরিক তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত আটাশ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বহুমুখী সংঘাত বর্তমানে পঞ্চম মাসে পদার্পণ করেছে। সিবিএস নিউজ এবং রয়টার্সের বিস্তারিত যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক অস্ত্রের মজুত অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। এর মধ্যে দূরপাল্লার কৌশলগত আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, আক্রমণাত্মক অস্ত্রের এই ভয়াবহ ঘাটতির কারণে ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হলে মার্কিন বাহিনীকে অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আকাশপথের হামলা এবং স্বল্প দূরত্বের সরাসরি আক্রমণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা যুদ্ধের ময়দানে বিশাল ঝুঁকির কারণ হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের অপর একটি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, প্যাট্রিয়ট এবং থাড-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মজুতও একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এই খবরটি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, আকাশপথে ধেয়ে আসা শত্রু-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম এই উন্নত প্রতিরক্ষা অস্ত্রগুলোর আপাতত কোনো কার্যকর স্বল্পমেয়াদী বিকল্প যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। স্বাধীন বিশ্লেষকরা হিসাব করে দেখেছেন, জরুরি ভিত্তিতে বিশাল সামরিক বাজেট বরাদ্দ করা হলেও যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় এই প্রতিরক্ষা অস্ত্রগুলোর মজুত পুনরায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

তবে এসব উদ্বেগজনক সামরিক প্রতিবেদনের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার আবারও জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, টানা পাঁচ মাস ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ চললেও অস্ত্রের মজুতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিন্দুমাত্র কোনো কৌশলগত অসুবিধার মধ্যে নেই। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কিছু ধরনের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিনিয়ত বড় পরিসরে তা উৎপাদন ও দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা চুক্তিতে থাকা অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আধুনিক কারখানা নির্মাণ করছে বলেও তিনি তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

তথ্য পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী বিবৃতি যারা গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করেছে, তাদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আটকের পর তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের আবেদন করা হবে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি কীভাবে পেন্টাগন বা অন্যান্য সামরিক দপ্তরগুলোর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্য প্রবাহকে প্রভাবিত করবে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক রসদ সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ পরিচালনার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্রই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।

banner
Link copied!