বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিমানে ওভারহেড লকার ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ফি বসাল জেটস্টার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

বিমানে ওভারহেড লকার ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ফি বসাল জেটস্টার

অস্ট্রেলিয়ার বাজেট এয়ারলাইন জেটস্টার আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিমানে ওভারহেড লকার ব্যবহারের জন্য যাত্রীদের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে বিবিসি নিউজ। প্রতিষ্ঠানটির এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। এর মাধ্যমে বাজেট এয়ারলাইনগুলোর অতিরিক্ত আয়ের প্রবণতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে কেবিন ব্যাগেজের ক্ষেত্রে বর্তমান ৭ কেজি ওজনের সীমা পুরোপুরি বাতিল করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। এর বদলে প্রত্যেক যাত্রী কেবল একটি ছোট ব্যাগ বিনামূল্যে বহন করতে পারবেন, যা সামনের আসনের নিচে খুব সহজে রাখা সম্ভব হয়। তবে কোনো যাত্রী যদি ওভারহেড লকার বা ওপরের তাক ব্যবহার করতে চান এবং বড় ব্যাগ বহন করতে চান, তবে তাকে বাড়তি ফি দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওঠার সুবিধা কিনে নিতে হবে।

এই নতুন ফির পরিমাণ যাত্রার গন্তব্যের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হবে বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। লনসেসটন থেকে সিডনি যাওয়ার মতো ছোট দূরত্বের ফ্লাইটের জন্য ওভারহেড লকারের ফি শুরু হবে ২৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে। অন্যদিকে কেয়ার্নস থেকে টোকিও যাওয়ার মতো দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এই ফি ৫২ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। জেটস্টারের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন যে, এই দামগুলো একটি সাধারণ দৃষ্টান্ত মাত্র। তিনি সতর্ক করে বলেন, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে, তাই বুকিংয়ের সময় দাম নির্দিষ্ট নাও থাকতে পারে।

জেটস্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি টালি এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, নিয়মিত গ্রাহক ও ক্রুদের দীর্ঘদিনের মতামতের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের গেটে ব্যাগ ওজন করা এবং ওভারহেড লকারে জায়গা খোঁজার বিষয়টি বিমান ভ্রমণের অন্যতম চাপের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। নতুন নিয়মের ফলে ওভারহেড লকারের জায়গার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যাত্রীদের ওঠার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং ফ্লাইটগুলো সঠিক সময়ে ছেড়ে যেতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নতুন নিয়মে ওভারহেড লকারের ব্যাগের ওজন সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত হতে পারবে, তবে শর্ত হলো যাত্রীকে নিজের ব্যাগ নিজেই ওঠাতে হবে।

বিমান কর্তৃপক্ষের এমন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ক্ষুব্ধ এক গ্রাহক মন্তব্য করেছেন যে, ওভারহেড লকারের জন্য ২৫ ডলার দিতে হচ্ছে, এরপর হয়তো বিমানের শৌচাগার ব্যবহারের জন্যও আলাদা ফি চাওয়া হবে। আরেকজন চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিমানের আসন, খাবার এবং চেক-ইন ব্যাগেজের জন্য আগে থেকেই বাড়তি টাকা দিতে হয়, এখন হয়তো সাবান ও টিস্যু ব্যবহারের জন্যও ফি দিতে হবে।

তবে কিছু নিয়মিত ভ্রমণকারী এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, কিছু স্বার্থপর যাত্রী প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যাগ নিয়ে লকারের সমস্ত জায়গা দখল করে রাখেন, যার ফলে অন্যদের জ্যাকেট বা ছোট ব্যাগ রাখার জায়গাও অবশিষ্ট থাকে না। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের ইজিজেট এবং আয়ারল্যান্ডের রায়ানএয়ারের মতো বিশ্বের অন্যান্য পরিচিত বাজেট এয়ারলাইনগুলোও বর্তমানে একই ধরনের ব্যবসায়িক নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।

banner
Link copied!