মাসিকের আগের দিনগুলোতে নারীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ভিডিওতে এই অবস্থাকে বলা হচ্ছে লিউটিয়াল আগলিজ, যা মূলত ঋতুচক্রের দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে থাকে। এই সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং প্রজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ত্বক অনুজ্জ্বল হয়ে যাওয়া, ফোলাভাব এবং মেজাজের পরিবর্তন দেখা দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই হরমোন পরিবর্তনের কারণে নারীদের ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ব্রণের উপদ্রব বাড়তে পারে এবং স্তনের আকৃতি বা সংবেদনশীলতায় পরিবর্তন আসতে পারে। ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন ও জিনতত্ত্বের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলেন ও`নিল জানান যে হরমোন পরিবর্তনের এই সময়ে শরীর তরল ধরে রাখে, ফলে মুখ ও শরীর ফুলে যেতে পারে এবং পেশিতে অস্বস্তি হতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেওয়ার কথাও অনেকে উল্লেখ করেছেন।
নারীদের হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. লুইস নিউসন উল্লেখ করেছেন যে এই উপসর্গগুলোকে কেবল সাধারণ পিএমএস বা প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। অনেক নারী এই সময়ে চরম হতাশা, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগের অভাব এবং সামাজিক মেলামেশায় অনীহার শিকার হন। অথচ সমাজ প্রায়ই এই কষ্টগুলোকে গুরুত্ব দিতে চায় না বা নারীদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ বলে অভিহিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে যে হরমোনের এই প্রাকৃতিক তারতম্য নারীদের দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষমতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ে, যেখানে ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্তি বা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা কাজ করতে পারে।
ইলেনা স্প্যাভেন এবং হেনরিয়েটা নামের কয়েকজন তরুণী বিবিসিকে জানান যে এই সময়ে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কাজের জায়গায় বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলামেশার সময় তারা চরম মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। ছত্রিশ বছর বয়সী উদ্যোক্তা শার্লট ডডস জানান যে তার দুই সন্তান ও ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি এই সময়ে ঘন ঘন ব্রণ ও মনোযোগের অভাব তার আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে নারীদের ঋতুচক্র ও হরমোনজনিত স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা এই কঠিন সময়গুলোতে প্রয়োজনীয় সহানুভূতি ও সহায়তা পেতে পারেন।
