কনসার্টে ফিলিস্তিনের সমর্থনে পতাকা ওড়ানোর জেরে ব্রিটিশ সঙ্গীত দল মাসিভ অ্যাটাকের সদস্যদের আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিঙ্গাপুর পুলিশ। গত সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্যান্ডটি জানিয়েছে যে গত মাসের শেষ সপ্তাহে দেশটির একটি থিয়েটারে পরিবেশনা শেষ করার পর তাদের আটক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক्रিয়ার সৃষ্টি করেছে।
গত উনত্রিশে জুলাই সিঙ্গাপুরের স্টার থিয়েটারে কনসার্ট চলাকালীন ব্যান্ডটির সদস্য রবার্ট ডেল নাজা এবং গ্রান্ট মার্শাল মঞ্চে ফিলিস্তিনের একটি পতাকা প্রদর্শন করেন। সে সময় উপস্থিত হাজারো দর্শক ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে একটি স্বাধীন দেশের পতাকা প্রদর্শন করা কোনো আইনের লঙ্ঘন হতে পারে তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে ভক্তদের সঙ্গে এই সংহতি প্রকাশ করতে পেরে তারা গর্বিত বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে কনসার্ট শেষ হওয়ার পরই পুরো ব্যান্ডদলটিকে পুলিশ আটক করে এবং আলাদাভাবে জেরা করে। এমনকি কিছু সদস্যের হোটেল রুমে তল্লাশি চালানো হয় এবং সাময়িকভাবে পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সিঙ্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ব্যান্ডটির এই ধরনের কার্যক্রম দেশটির জাতিগত ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। দেশটির কঠোর আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া জনসমক্ষে কোনো বিদেশি পতাকা বা প্রতীক প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এই ঘটনার পর পুলিশ দুই ব্যান্ড সদস্যকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং তাদের সিঙ্গাপুরে প্রবেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্বজুড়ে যখন ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ ও সংহতি জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই রাষ্ট্রে এমন কঠোর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যান্ডটির প্রধান সদস্যরা ছাড়াও তাদের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পীরা এই ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যেও নানামুখী প্রতিক्रিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাকস্বাধীনতা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে শান্তিপূর্ণ সংহতি প্রদর্শনের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিঙ্গাপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি রক্ষা করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভবিষ্যতে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিল্পীদের পরিবেশনার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি কী হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির মঞ্চে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের বিষয়টি সবসময়ই স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। তবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানানো কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না বলে অনেকেই মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আন্তর্জাতিক শিল্পীরা আরও সতর্ক হবেন কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। সিঙ্গাপুর সরকারের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক আইন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
