রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তির চেষ্টা করছে সিরিয়া

সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে রবিবার নিশ্চিত করেছেন, আল জাজিরা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা আল জাজিরার বিশেষ সাক্ষাৎকার ভিত্তিক অনুষ্ঠান ‍‍`আল মুকাবালা‍‍`-য় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান যে, একাধিক দেশের অংশগ্রহণে তৈরি হতে যাওয়া এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যস্থতায় একটি সুদূরপ্রসারী শান্তির পথ উন্মোচন করতে পারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসন ও বিমান হামলার পর এই নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট আল-শারা স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১৯৭৩ সাল থেকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা ঐতিহাসিক গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার সার্বভৌম অধিকারের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। সিরিয়া বর্তমানে যেকোনো উপায়ে সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলতে চায় এবং একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগ্রহী। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক পরিবর্তন সত্ত্বেও সিরিয়া নিজস্ব ভূখণ্ডের অধিকার বজায় রেখেই কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান খোঁজার ব্যাপারে আন্তরিক।

পাশের দেশ লেবাননের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আল-শারা নিশ্চিত করেন যে, প্রতিবেশী দেশে নতুন করে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা দামেস্কের নেই। বর্তমানে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষে দক্ষিণ লেবানন উত্তপ্ত থাকলেও সিরিয়ার সরকার কেবল লেবানন কর্তৃপক্ষকে দেশটির সংকট কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুদ্ধ কিংবা শান্তির মতো বড় সিদ্ধান্ত এবং সর্বপ্রকার অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ কেবল লেবানন সরকারের হাতেই থাকা উচিত। লেবাননে কোনো ধরনের নৈরাজ্য তৈরি হলে তার সরাসরি বিরূপ প্রভাব সিরিয়ার ওপর পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন যে, দেশটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ না দেওয়া পর্যন্ত কেবল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া কার্যকর ফলাফল দেবে না। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস বা এসডিএফের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অভ্যন্তরীণ চুক্তির বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত হলেও সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সম্পূর্ণ অনুগত রয়েছে।

একই সঙ্গে আল-শারা ঘোষণা করেন যে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে গুম হওয়া এবং নিখোঁজ নাগরিকদের তথ্য অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষ জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার নিখোঁজ বিষয়ক জাতীয় কমিশনের অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এই কমিটি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো ইসরায়েল সরকার এবং তাদের আন্তর্জাতিক মিত্ররা আল-শারার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তিকে কীভাবে গ্রহণ করবে এবং গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার দাবি মেনে নিয়ে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি আদৌ বাস্তবে রূপ নেবে কি না। দামেস্কের নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের মুখে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ কমানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।

banner
Link copied!