রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি প্রধানের বার্তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সিজেপি প্রধানের বার্তা

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের জের ধরে টানা সাঁইত্রিশ দিনের উত্তাল আন্দোলন এবং দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু নিশ্চিত করেছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় ত্রিশ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারী নেতা জানান যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলনকারীদের জন্য কেবল একটি প্রাথমিক বিজয়, এবং তাদের সামনে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ বাকি রয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে ককরোচ জনতা পার্টি তাদের দীর্ঘ অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দিপকে উল্লেখ করেন যে টানা আন্দোলনের পর তিনি অবশেষে মানসিক চাপমুক্ত হয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে পেরেছেন। বিগত সাঁইত্রিশ দিনকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন ও অনিশ্চয়তায় ভরা সময় হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে এতদিন প্রতি রাতে পরবর্তী দিনের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। দেশের লাখ লাখ জেন-জি তরুণ এবং নিট পরীক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের এই সংগ্রামকে কোনো একক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই সংস্কারে কাজে লাগানোর জন্য তিনি বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানান। সিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে এই সাফল্যকে শেষ হিসেবে না দেখে একটি নতুন সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কৌতুকপ্রদ অবয়বে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি গঠিত হলেও তা দ্রুতই ভারতীয় যুবসমাজের এক শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়। জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটে অনিয়ম, অসদুপায় ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর এই প্ল্যাটফর্মটির ব্যানারে হাজার হাজার তরুণ রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় রাজপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যোগ দিলে মোদি সরকারের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেয়।

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে অভিজিৎ দিপকে জানান যে উচ্চ মাত্রার জ্বর ও টাইফয়েডে আক্রান্ত থাকার কারণে আন্দোলনের শেষ দিনে যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে সহযোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে পারেননি। তবে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর মন্তরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নেওয়া হাজার হাজার সমর্থকের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি যারা এই আন্দোলনের বিভিন্ন কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন যে তাদের উত্থাপিত প্রশ্নই আন্দোলনকে বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছিল।

ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতায় বিজেপি সরকার নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীকে নিযুক্ত করেছে এবং পূর্বে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশাল জয় হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে অনিয়ম ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো সিজেপি তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত গণজোয়ারকে ভবিষ্যতে একটি মূলধারার রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে নাকি কেবল একটি শিক্ষা অধিকার রক্ষা বিষয়ক নাগরিক সংগঠন হিসেবে সীমিত রাখবে। ভারতের রাজপথের আন্দোলন আপাতত প্রশমিত হলেও নতুন শিক্ষামন্ত্রীর পদক্ষেপ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সম্ভাব্য সংস্কারের দিকে এখন দেশবাসীর কৌতূহলী নজর রয়েছে।

banner
Link copied!