ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে আন্দোলন থেকে বিরতি নিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র আন্দোলন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই তার অসুস্থতার কথা দেশবাসীকে জানান এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে প্রতিবাদস্থলে ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গত বুধবার রাতে রাজধানী দিল্লির রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েক শেল কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে অগ্রসরমান বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করতে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও কাচের বোতল ছোঁড়েন। এই সংঘর্ষের সময় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত নৃশংস ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতারা। এই দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ দীপক জানান যে গত কয়েকদিন ধরে তার প্রচণ্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। কোনোমতে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করার জন্য তাকে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। যন্তর মন্তরে তার সঙ্গে উপস্থিত হতে না পারার কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সুস্থ হওয়ার জন্য কয়েক ঘণ্টা বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও বিশ্রাম শেষ করে তিনি পুনরায় প্রতিবাদস্থলে ফিরে আসবেন বলে জানান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই চলমান আন্দোলন কেবল একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনড় অবস্থানে রয়েছে। পুলিশি দমন-পীড়ন ও সহিংসতার পরও আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি থেকে পিছু হটেনি। দেশজুড়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এই প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।
শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক অসন্তোষের মুখে নড়েচড়ে বসেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত সোমবার সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তী দিনে ছাত্র ও যুব সমাজের ওপর পরিচালিত পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও সরব হন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং ছাত্রসমাজের আন্দোলন এক নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা এলেও আন্দোলনকারীরা তাদের সুনির্দিষ্ট দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়তে নারাজ।
