ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর চলমান পুলিশি সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে আগামী শুক্রবার দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দেশের প্রতিটি জেলায় এই প্রতিবাদ কর্মসূচি একযোগে পালিত হবে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো উচ্চস্বরে তুলে ধরার জন্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আন্দোলন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এই গণবিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে চলমান এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক ব্যক্তিগত বার্তায় তিনি নিজেই তার অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। তীব্র জ্বর ও শরীর ব্যথার কারণে তাকে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বিশ্রাম শেষে তিনি পুনরায় প্রতিবাদস্থলে ফিরে আসবেন বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জানান যে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণই সরকারের সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা দেশের উদীয়মান তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে, তাদের কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গত সোমবার দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।
গত মঙ্গলবার ছাত্র ও যুব সমাজের ওপর পরিচালিত পুলিশি দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও ছাত্রসমাজ এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
