বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফ্রান্সে দাবানল: ২০ হাজার মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ফ্রান্সে দাবানল: ২০ হাজার মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের জিরোন্দে অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে বলে বিবিসি নিউজ ও বার্তা সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। আর্কাশন উপসাগরের আশপাশের বনাঞ্চলে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর এই ব্যাপক উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়। লিজ-কাপ-ফেরে উপদ্বীপের স্থানীয় ক্যাম্পিং সাইটগুলো থেকে কয়েক হাজার পর্যটক ও অধিবাসীকে রাতারাতি সরিয়ে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। জরুরি সেবাকর্মীরা জানিয়েছেন যে আর্কাশন বে সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩,১০০ হেক্টর বনাঞ্চল সম্পূর্ণ পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।

জিরোন্দে অঞ্চলের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে রাতের বেলা উচ্ছেদ করা এলাকার মধ্যে বেশ কয়েকটি পর্যটন শিবির ছিল, যেখানে অন্তত ১০ হাজার দর্শনার্থী অবস্থান করছিলেন। ক্লাউই গ্রামের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চলের সংযোগ সড়কগুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা সারারাত ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সোফি ব্রোকাস নিশ্চিত করেছেন যে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিযোদ্ধা দলের প্রধান মার্ক ভার্মিউলেন পরিস্থিতির চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন যে অঞ্চলের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রবল বাতাস আগুনের শিখাকে আরও উসকে দিচ্ছে। রাতের বেলায় বিরতিহীনভাবে চেষ্টা চালানো সত্ত্বেও বাতাসের দিক ঘনঘন পরিবর্তিত হওয়ায় আগুনের পরবর্তী গতিপথ পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পরিস্থিতি কোনোভাবেই শিথিল করার সুযোগ নেই। এর আগে বর্দো বিমানবন্দরের কাছে আরেকটি পৃথক দাবানল সামলাতে গিয়ে ফ্রান্সের দুজন ফায়ারফ্লাইটার প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের প্রতি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

উপকূলীয় এলাকা লে পোর্জের এক তরুণী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে বুধবার দুপুরের দিকে হঠাৎ বাতাসে পোড়া গন্ধ ও ঘন ধোঁয়া দেখতে পান তারা। বিকালের মধ্যে আকাশ পুরো অন্ধকার হয়ে যায় এবং অর্ধেক পোড়া গাছের ছাল ও ছাই ঝরে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পুরো পরিবারকে পার্শ্ববর্তী শহরের একটি ব্যায়ামাগারে নির্মিত সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে। পর্যটকরা জানিয়েছেন যে উচ্ছেদের ভয়ে অনেকেই আগেভাগেই এলাকা ছাড়তে শুরু করায় স্থানীয় সুপারমার্কেট ও রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে পড়েছিল।

দাবানলের এই সংকট কেবল ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্পেনের টোলেডো সংলগ্ন আলমো রক্স এলাকাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অধিবাসীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের কারণে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে এবং গুয়াদালাহারা এলাকায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে নিঃশেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইতালির সিসিলি দ্বীপে ৩৫০টিরও বেশি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। সিসিলির সান কাতালদো এলাকায় আগুন নেভাতে গিয়ে আলেসান্দ্রো মার্চি নামে এক ইতালীয় ফায়ারফ্লাইটার মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন। ইউরোপজুড়ে চলতে থাকা এই দুর্যোগের পেছনে মানবসৃষ্ট কারণও রয়েছে বলে সিসিলির সিভিল প্রোটেশন প্রধান সালভো কোচিনা জানিয়েছেন।

ইউরোপীয় জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা কোপারনিকাসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকা মহাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অঞ্চলের ৯৫ শতাংশেরও বেশি এলাকায় গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো আগামী কয়েক দিনে বাতাসের তীব্রতা কতখানি বৃদ্ধি পাবে এবং অগ্নিনির্বাপক দলগুলো কত দ্রুত এই বিশাল এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। তবে আগুনের গতি থামিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করাই এখন ফ্রান্সের জরুরি বিভাগের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

banner
Link copied!