ফ্রান্সের বিখ্যাত ফনটেনব্লু বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হচ্ছে। দাবানলের কারণে প্রধান মহাসড়ক ও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বনে আগুনের সূত্রপাত হয়।
সোমবার সকাল নাগাদ দাবানল ৮০০ হেক্টরের বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম বাতাসের কারণে আগুনের গতিবেগ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে এ ছয় নম্বর মহাসড়কটি আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা ফ্রান্সের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সংযোগ রক্ষা করে। এছাড়া ভাউডাউ গ্রামের ১৫টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ৪০০ জন দমকল কর্মীকে মোতায়েন করেছে। সোমবার আগুন নেভানোর জন্য বিশেষায়িত দুটি ওয়াটার বোম্বিং বিমান ব্যবহার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত প্রবল এবং এটি ব্যতিক্রমী মাত্রার। ফ্রান্সের জাতীয় দমকল ফেডারেশনের এরিক ব্রোকার্ডি জানিয়েছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই প্রথমবারের মতো অগ্নিনির্বাপক বিমান প্যারিস অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি হেলিকপ্টার এবং একটি পর্যবেক্ষণ বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
প্যারিস অঞ্চলে বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া বর্তমানের এই তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব ছিল। তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ১৭,০০০ হেক্টর জমি দাবানলে পুড়ে গেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ফনটেনব্লু বনটি ফ্রান্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র এবং রাজকীয় প্রাসাদের জন্য পরিচিত, ফলে এই অগ্নিকাণ্ড জাতীয় ঐতিহ্যের জন্য এক বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
