রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:২১ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চলমান অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণ চালিয়েছে বলে আজ এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। কায়রো ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যে এই নতুন হামলায় এক ফিলিস্তিনি শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ইসরায়েল প্রতিনিয়ত সেখানে বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গাজা সিটির সাবরা এলাকায় একটি কর্মশালা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন বলে আল শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা সেখানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে কোনো পূর্বসতর্কবার্তা ছাড়াই বেসামরিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্য গাজার আল বুরেজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব পাশে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী তাঁবু লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে তালা আবু মাতার নামের নয় বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে গুলিবর্ষণে গুরুতর আহত হয়ে শিশুটি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। এর পাশাপাশি গত শুক্রবার ইসরায়েলি হামলায় আহত আরও দুই ফিলিস্তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।

গত অক্টোবর মাসে চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজায় বড় ধরনের মুখোমুখি যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ইসরায়েলি বিমান হামলা ও চোরাগোপ্তা অভিযান থামেনি। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এই তথাকথিত অস্ত্রবিরতি চলাকালীন সময়েই ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে এক হাজার আটানব্বই জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে গাজার প্রায় আশি শতাংশ অঞ্চলের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে কায়রোতে চলমান আলোচনা কতদূর এগোবে। হামাসের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে মিসরের রাজধানীতে অবস্থান করলেও হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত সর্বমোট তিয়াত্তর হাজার একশত আঠারো জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।

banner
Link copied!