যুক্তরাজ্যের ডেভনে সাবেক সরকারি মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক অ্যান উইডেকম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাব্বিশ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে পুলিশ। সেই সাথে একজন নতুন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ ঘাতকের সন্ধানে দেশজুড়ে জোর তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে বিবিসি নিউজ ও রয়টার্স জানিয়েছে।
আটাত্তর বছর বয়সী এই নেত্রীর গুরুতর জখমসহ মৃতদেহ গত বৃহস্পতিবার তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধারের পুরো চব্বিশ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ গত বুধবার তিনি মারাত্মক হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে গোয়েন্দারা জোরালোভাবে ধারণা করছেন।
বিবিসি নিউজের প্রাপ্ত তথ্যমতে, বুধবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের আগে প্রযোজকরা তার সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি। যা কম স্পষ্ট তা হলো, ঠিক কোন সময়ে ঘাতক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়েছিল। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শুরুতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই তরুণ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নন এবং তাকে নির্দোষ হিসেবে তদন্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ডেভনের হেটর নামক ওই ছোট গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাস্থলের চারপাশে বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে ফরেনসিক দল নিবিড়ভাবে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তদন্ত খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নতুন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আকস্মিক এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রাম জুড়ে চরম শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অ্যান উইডেকম যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ১৯৯৪ সালে তিনি কর্মসংস্থান দপ্তরের মন্ত্রী এবং ১৯৯৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ছায়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০১০ সালে মূলধারার রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে তিনি ব্রেক্সিট পার্টির হয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর ২০২০ সালে সেই পদ ছাড়েন। সবশেষ ২০২৩ সালে তিনি রিফর্ম ইউকে দলে যোগ দেন এবং অভিবাসন ও বিচার বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এখন এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য বা গাড়ির ড্যাশক্যামের ফুটেজ দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেছে।
