শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আলবেনিয়ায় কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্প: জমি হস্তান্তরে জালিয়াতির অভিযোগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১১, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

আলবেনিয়ায় কুশনারের রিসোর্ট প্রকল্প: জমি হস্তান্তরে জালিয়াতির অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

আলবেনিয়ার একটি সংরক্ষিত উপকূলীয় অঞ্চলে জ্যারেড কুশনারের অর্থায়নে নির্মিত হতে যাওয়া রিসোর্ট প্রকল্পের জমি হস্তান্তরে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আলবেনিয়ার দুর্নীতি দমন সংস্থা এই প্রকল্পের সাথে জড়িত দলিলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রয়টার্স ও আল জাজিরার হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জমি হস্তান্তরে জালিয়াতির প্রমাণ খোঁজা হচ্ছে, যা প্রকল্পটিকে আইনি জটিলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট জমি হস্তান্তরের মূল হোতা হিসেবে মায়ামিভিত্তিক ব্যবসায়ী আর্তুর শেহুর নাম এসেছে। নথিপত্র অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে তিনি আলবেনিয়া ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাছে এই জমি হস্তান্তর করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, শেহু ও তার সহযোগীরা মাদক পাচারের অর্থ আলবেনিয়ার এই সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং অর্থের উৎস গোপন করতে জাল দলিলের আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এই বিক্রির সাথে জড়িত ১১ কোটি ইউরো সমমূল্যের অর্থ একটি নোটেরির অ্যাকাউন্ট থেকে জব্দ করেছে।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর আইনজীবী কুজতিম কাকরানি এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তার মক্কেলের চরিত্রের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তা মিথ্যা। তার মতে, শেহু কোনো পাচারকারী বা দলিল জালিয়াত নন এবং তিনি পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি আইনসম্মতভাবেই বিক্রি করেছেন। কাকরানি আরও দাবি করেন যে, আলবেনিয়ার বিচার বিভাগ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে কাজ করছে, তাই এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত নিয়ে তাদের তেমন মাথাব্যথা নেই।

এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরেই স্থানীয়রা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। রিসোর্টটি যে এলাকায় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটি জলাভূমি ও সমুদ্র সৈকত অধ্যুষিত একটি সংরক্ষিত অঞ্চল। এটি সামুদ্রিক কচ্ছপ ও ফ্ল্যামিঙ্গো পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল। ফ্ল্যামিঙ্গো পাখিকে এই আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাকে তারা নাম দিয়েছে ফ্লামিংগো রেভোলিউশন। শুরুতে কেবল এই প্রকল্পের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ শুরু হলেও, এখন তা প্রধানমন্ত্রী এড রামার পদত্যাগের দাবিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

জ্যারেড কুশনার এবং তার স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি প্রমোদতরী থেকে এই উপকূলীয় এলাকা দেখার পরই তাদের রিসোর্ট নির্মাণের ধারণাটি মাথায় আসে। ২০২৪ সালে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিলাসবহুল হোটেল, ভিলা ও মেরিনার নকশা প্রকাশ করেছিলেন। রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জমি হস্তান্তরের সময় কুশনার বা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা এই জালিয়াতির বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আলবেনিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এই ইস্যু এখন বেশ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তদন্তের ফলাফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!