ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাইর স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে রয়েছেন। লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাপক সমর্থন তাকে এই দৌড়ে অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির মোট ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ৩২২ জন আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ডি বার্নহামকে দলীয় নেতা হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হলে কমপক্ষে ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। তবে বার্নহামের এই বিশাল সমর্থন তাকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে যে, অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে এই লড়াইয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পার্লামেন্টের সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই রাজনৈতিক উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত জুন মাসে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তিনি পুনরায় ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে আসেন। এরপর কাইর স্টারমার পদত্যাগ করলে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্টারমার তার মেয়াদের বিভিন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় নির্বাচনে দলের ব্যর্থতার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের এই যাত্রার পেছনে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং সেখানে কার্যকর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সফল হয়েছেন। বার্নহামের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক দর্শন এখন লন্ডনের কেন্দ্রীয় শাসন থেকে ক্ষমতা কিছুটা বিকেন্দ্রীকরণের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি এর আগে ম্যানচেস্টারে একটি নতুন সরকারি ইউনিট বা টেন ডাউনিং নর্থ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যার লক্ষ্য স্থানীয় সরকারগুলোকে আরও বেশি ক্ষমতা প্রদান করা।
আগামী ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এর আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি লাভ করবেন। বার্নহাম এমন এক সময়ে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন যখন যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় এবং স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের মতো জটিল বিষয়গুলোর মুখোমুখি।
তার মনোনয়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তার গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভা। বার্নহামের সমর্থকদের দাবি, ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন একটি নতুন ধারার সূচনা করবে। অন্যদিকে বিরোধীরা এই দ্রুত ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, লেবার পার্টির অভ্যন্তরে বার্নহামের প্রতি সমর্থন নিরঙ্কুশ। সবকিছু ঠিক থাকলে ব্রিটেন তার ইতিহাসের সপ্তম প্রধানমন্ত্রীকে পেতে যাচ্ছে গত দশ বছরের মধ্যে, যা দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানতে পারে।
