চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্সের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে একটিই প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে যে তাদের কি আদৌ হারানো সম্ভব। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের ঠিক আগে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসছে ফ্রান্সের আধিপত্য এবং তাদের সম্ভাব্য দুর্বলতা। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে পাঁচটিই জিতেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। এই সময়ে তারা প্রতিপক্ষের জালে ১৪টি গোল দিয়েছে এবং হজম করেছে মাত্র দুটি। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, ওসমান ডেম্বেলে এবং ব্র্যাডলি বারকোলার সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিসিসি স্পোর্টের বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন ফ্রান্স অজেয় নয়। সাংবাদিক ফিল ম্যাকনাল্টি ও ইয়ান ডেনিসের মতে ফ্রান্সের এই আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাঝেও কিছু ফাঁক রয়েছে যা প্রতিপক্ষ কাজে লাগাতে পারে। স্পেনের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তারা জানিয়েছেন যে স্প্যানিশ দলটি রক্ষণভাগে বেশ শক্তিশালী এবং তারা এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি। স্পেনের খেলার ধরন নিয়ন্ত্রণমূলক, যা ফ্রান্সের মতো দলকে বিপাকে ফেলতে পারে। এছাড়া ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের অজেয় থাকার দৌড় ফ্রান্সের জন্য সেমিফাইনালে একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ফ্রান্সের মিডফিল্ডের গভীরতা নিয়েও কিছু সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ওলিসেকে আক্রমণভাগের দায়িত্ব দেওয়ার পর মাঝমাঠে ফ্রান্স কতটা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জন বেনেটের মতো বিশ্লেষক। যদি ফ্রান্স এমন কোনো দলের মুখোমুখি হয় যারা বল পজিশন ধরে রাখতে পছন্দ করে এবং পাল্টা আক্রমণ করতে জানে, তবে ফ্রান্সের মিডফিল্ড কিছুটা চাপে পড়তে পারে। এছাড়া মরক্কোর মতো দলগুলো যারা রক্ষণভাগে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, তারা ফ্রান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনেকের মতে ইংল্যান্ডও ফ্রান্সকে আটকানোর সামর্থ্য রাখে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডের শারীরিক সক্ষমতা এবং ডেক্লান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসেন ও জুড বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতিকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইংল্যান্ডের দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতা ফ্রান্সকে চাপে ফেলার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। এছাড়া মরক্কোর মতো দল, যারা বিগত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিল, তারাও ফ্রান্সকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে।
ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় যে অনেক সময় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা দলগুলোও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে ব্যর্থ হয়। ব্রাজিলের ১৯৮২ সালের দল কিংবা জার্মান দলের অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও তারা সফল হতে পারেনি। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে পিছিয়ে পড়েনি, যা তাদের মানসিক শক্তির পরিচায়ক। তবে নকআউট পর্বের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা এবং যেকোনো ভুল বড় ধরনের মাশুল গুণতে বাধ্য করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স কি তাদের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারবে, নাকি নতুন কোনো শক্তির উত্থান ঘটবে তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
