বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করলেন নাইজেল ফারাজ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৮, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করলেন নাইজেল ফারাজ

ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসন বিরোধী সংস্কার পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ আকস্মিকভাবে পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অনুদান গ্রহণ এবং তা গোপন করার অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন। সংসদীয় তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে বাঁচতে তিনি এই কৌশল গ্রহণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পদত্যাগের পরপরই তিনি ঘোষণা করেছেন, তার নির্বাচনী এলাকা ক্লাকটনে উপনির্বাচন হবে এবং তিনি সেখানে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক কোটি ডলারের অনুদান নিয়ে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার আগে পাওয়া রাজনৈতিক অনুদান ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। নাইজেল ফারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি নির্বাচনের আগে থাইল্যান্ডভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ড গ্রহণ করেছিলেন, যা তিনি গোপন করেছেন। গার্ডিয়ান পত্রিকার তথ্যমতে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কাছে রিপোর্ট করেছে। ফারাজ অবশ্য দাবি করেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত উপহার ছিল এবং এর সঙ্গে সংসদীয় কোনো নিয়ম ভাঙার সম্পর্ক নেই।

অভিযোগ কেবল এখানেই শেষ নয়। দ্য সানডে টাইমস তাদের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানিয়েছে যে, জর্জ কট্রেল নামক এক সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ও ব্যবসায়ী ফারাজের নিরাপত্তা ও কর্মী নিয়োগের জন্য অর্থায়ন করেছিলেন। কট্রেল অতীতে অর্থ পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কারাবরণ করেছিলেন। ফারাজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফারাজের সমর্থনে পোস্ট দিয়ে একে তার বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ফারাজের এই পদত্যাগের ফলে একটি উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। মজার বিষয় হলো, লেবার পার্টি, কনজারভেটিভ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা এই উপনির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেবে না। তাদের মতে, ফারাজ সংসদীয় নিয়ম থেকে বাঁচতে এবং তদন্তের হাত থেকে নিস্তার পেতে রাজনৈতিক ফন্দি করছেন। প্রধান দলগুলোর এই বয়কটের সিদ্ধান্তকে ফারাজ তার রাজনৈতিক কৌশলের জয় হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতে ফারাজের এই নাটকীয় অবস্থান নতুন কিছু নয়। ব্রেক্সিট আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে পরিচিতি পান এবং গত দুই বছরে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে সংস্কার পার্টি লেবার পার্টির দুর্গগুলোসহ দেড় হাজারেরও বেশি আসন জিতেছে। এখন তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে তুলে ধরে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছেন। তবে সংসদীয় তদন্তের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। যদি তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে ফেরেন, তবে তদন্ত পুনরায় শুরু হতে পারে। ফারাজ এখন ক্লাকটনবাসীর রায়ের ওপর ভরসা করে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখতে মরিয়া।

banner
Link copied!