ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের পর নাইজেল ফারাজ কর্তৃক ডাকা ক্লাকটন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লেবার, কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি এবং রিস্টোর ব্রিটেন। সংস্কার পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ তার আর্থিক বিষয় নিয়ে তদন্তের মুখে পড়ার পর এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাকটনবাসী তার কাজের বিচার করবে এবং এটি হবে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লড়াই।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক দলই ফারাজের এই কৌশলে পা দেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ফারাজ সংসদীয় নিয়ম থেকে বাঁচতে এবং জনগণের মনোযোগ সরাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। লেবার এবং কনজারভেটিভসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট করেছে যে তারা এই নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না।
সংসদীয় মানদণ্ড বিষয়ক কমিশনার ড্যানিয়েল গ্রিনবার্গের তদন্তের মুখে থাকা ফারাজ দাবি করেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি। তার দলের মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ দাবি করেন, বিরোধী দলগুলো ফারাজকে ভয় পাচ্ছে বলেই নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। তবে কনজারভেটিভ নেতা কেমি বেডেনক জানিয়েছেন, তার দল এই ভুয়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফারাজকে সহায়তা করবে না।
ফারাজের আর্থিক বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি অনুদান, যা তিনি নির্বাচনের আগে সংস্কার পার্টির দাতা ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নির্বাচিত এমপিদের নির্বাচনের ১২ মাস আগে পাওয়া রাজনৈতিক বা সংসদীয় অনুদান ঘোষণা করতে হয়। ফারাজ দাবি করেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত উপহার ছিল, তাই ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না।
ফারাজের পদত্যাগের ফলে বর্তমান তদন্তটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তিনি যদি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে ফেরেন, তবে তদন্ত পুনরায় শুরু হতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এলে recalled petition-এর মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফারাজ সেই প্রক্রিয়ার আগেই জনগণের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি নিয়েছেন।
ব্রিটেনের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রশাসনিক ব্যয় সরকারের কোষাগার থেকে আসে। ফারাজ প্রস্তাব দিয়েছেন তার দল এই ব্যয় বহন করবে। তবে লর্ড হেইওয়ার্ডসহ নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনী প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা ব্রিটিশ নির্বাচনের মূল নীতি। ফলে সরকারি ব্যয় বহন করার এই প্রস্তাব আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। ক্লাকটনবাসী এখন এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
