আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক ফুটবল প্রতিযোগিতার ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে তিন দুই ব্যবধানে একটি অবিশ্বাস্য জয় লাভ করেছে বলে বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। খেলার একটি বড় সময় জুড়ে দুই শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের খেলায় এক শূন্য ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল হজম করে তীব্র চাপে পড়েছিল দলটি। তবে শেষ তেরো মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের তিনটি গোল পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় এবং দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে চমকে দেয় মিশরের খেলোয়াড়রা। খেলার মাত্র ১৫ মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার একটি নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার হেডের সাহায্যে মিশরের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন ইয়াসের ইব্রাহিম। গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টিনা ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ শুরু করলেও মিশরের রক্ষণভাগের দৃঢ়তার কারণে প্রথমার্ধে তারা কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। বিরতির পর খেলার ৬৭ মিনিটে হাইসেম হাসানের দ্রুতগতির পাস থেকে পাল্টা আক্রমণে মিশরের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোস্তফা জিকো। এর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য তার আরও একটি গোল অফসাইডের কারণে রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি দলের হাল ধরেন এবং পুরো দলকে নতুন উদ্যমে উজ্জীবিত করেন। এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করলেও খেলার ৭৯ মিনিটে তার একটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে ব্যবধান কমান টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এই গোলের ঠিক চার মিনিট পর অর্থাৎ ৮৩ মিনিটে গনজালো মন্তিয়েলের পাস থেকে চমৎকার এক হাফ ভলিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে দুই দুই সমতায় ফেরান লিওনেল মেসি। গ্যালারির হাজারো দর্শককে উল্লাসে ভাসিয়ে মেসির করা এই সমতাসূচক গোলটি আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাটকীয়তা তৈরি হয় যখন মিশরের তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ পেনাল্টির দাবি জানান। তবে রেফারি সেই দাবি নাকচ করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ ৯২ মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের বাম দিক থেকে বাড়ানো ক্রস থেকে চেলসির মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ একটি দুর্দান্ত হেডের সাহায্যে মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবায়েরকে পরাস্ত করেন। এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা তিন দুই ব্যবধানের এক অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাকা করে।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের হয়ে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসন আর্জেন্টিনার এই প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে মিশর যখন জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে, তখনই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণ থেকে চমৎকারভাবে ম্যাচটি বের করে নিয়ে আসে। এই রোমাঞ্চকর জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়া। যা কম স্পষ্ট তা হলো ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের যে মারাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা পরবর্তী নকআউট পর্বের কঠিন ম্যাচগুলোতে দলের কোচ কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন।
