২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিদায় নিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের চরম ব্যর্থতা এবং মাঠের বাইরের নাটকীয়তা তাদের হারের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর এই ম্যাচে বেলজিয়ামের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। এটি ১৯৯০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
ম্যাচটির আগে গত কয়েকদিন ফোলারিন ব্যালোগানের লাল কার্ড নিয়ে ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের আলোচনার শীর্ষে ছিল। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা ব্যালোগানের ওপর থেকে স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছিল, যা নিয়ে বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরোসিও পোচেত্তিনো ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে এই বিতর্ক দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তিনি পরাজয়ের জন্য ব্যক্তিগত দায়ভার স্বীকার করে নিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের অগোছালো ভাব চোখে পড়ার মতো ছিল। চার্লস ডি কেটেলারে বেলজিয়ামের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও বেলজিয়ামের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের ভুলে বেলজিয়ামের তৃতীয় গোলটি হওয়ার পর গ্যালারির দর্শকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। বেলজিয়ামের হয়ে গোল পেয়েছেন হান্স ভানাকেন এবং রোমেলু লুকাকু।
স্বাগতিক হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় প্রত্যাশা ছিল। দলটির খেলার ধরণ এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছিল। তবে বেলজিয়ামের কাছে এই হারের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং কোচ পোচেত্তিনোর টিকে থাকা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পোচেত্তিনোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এই বিশ্বকাপ শেষেই শেষ হচ্ছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনো পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মিডফিল্ডার টাইলার অ্যাডামস বলেছেন যে এই পরাজয় তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রতিফলন নয়। ফুটবলপ্রেমীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ভিত্তি তৈরির জন্য এটি একটি শিক্ষা হতে পারে। যদিও স্বাগতিক হিসেবে তাদের বিদায়টা দ্রুত হয়েছে, তবে সারা দেশে যে ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে তা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সিয়াটল স্টেডিয়ামে পরাজয়ের পর অনেক সমর্থকই জানিয়েছেন যে তাদের আরও অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি রয়েছে।
