সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্বকাপের ইতিহাসে রক্ষণভাগে নতুন রেকর্ড স্পেনের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৬, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

বিশ্বকাপের ইতিহাসে রক্ষণভাগে নতুন রেকর্ড স্পেনের

বিশ্বকাপ ফুটবলে আক্রমণভাগ সমর্থকদের আনন্দ দিলেও জয় আসে মূলত রক্ষণভাগ থেকে। স্পেনের বর্তমান দলটি যেন এই প্রবাদের এক জীবন্ত উদাহরণ। এবারের বিশ্বকাপে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম না করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। টুর্নামেন্টের আর কোনো দল এখন পর্যন্ত এমনটি করতে পারেনি। রক্ষণভাগে এই ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্স স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন টানা ৫১৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। তিনি ওয়াল্টার জেঙ্গার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। তবে এই সাফল্য কেবল একজন গোলরক্ষকের নয়, বরং পুরো দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। রদ্রি, আইমেরিক লাপোর্ত এবং তরুণ তুর্কি পাউ কুবারসি মিলে যে রক্ষণদুর্গ তৈরি করেছেন, তা প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের জন্য এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা। রদ্রি মাঝমাঠে থেকে যেভাবে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন, তা বাসেকুয়েতের স্বর্ণালী সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

পরিসংখ্যান বলছে, স্পেন এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম শট হজম করেছে। টুর্নামেন্টে তারা মাত্র ১৯টি শট এবং মাত্র তিনটি শট অন টার্গেট সামলাতে হয়েছে তাদের। প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের ডি-বক্সের ভেতর খুব কমই সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। বল দখলের লড়াইয়ে স্পেন এখন পর্যন্ত গড়ে ৬৮ শতাংশেরও বেশি সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছে। ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলো গোলের সুযোগ পাওয়ার আগেই স্পেনের কাছে বল হারিয়ে ফেলে।

স্পেনের বর্তমান রক্ষণকৌশল কেবল গোল আটকানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। মারক কুচুরেলা এবং পেদ্রো পোরোর মতো ফুলব্যাকরা আক্রমণভাগে সমানতালে অবদান রাখছেন। বিশেষ করে কুচুরেলা এক ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে ২০০২ সালের পর থেকে স্পেনের প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে নতুন মাইলফলক গড়েছেন। এমন ভারসাম্যপূর্ণ দল খুব কমই দেখা যায়, যেখানে রক্ষণ ও আক্রমণ একই সুতোয় গাঁথা।

যদি স্পেন তাদের আগামী ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৪১ মিনিট গোল হজম না করে থাকতে পারে, তবে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয়টি ক্লিন শিট বা গোলবিহীন ম্যাচ খেলার নতুন রেকর্ড গড়বে। ২০১০ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যেও ছিল এমন অনমনীয় রক্ষণভাগ। লুইস দে লা ফুয়েন্তের বর্তমান দলটি কি সেই ইতিহাস নতুন করে লিখতে পারবে? ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন সেই অজেয় রক্ষণভাগের দিকেই।

banner
Link copied!