ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর নকআউট পর্বে আজ রবিবার মেক্সিকো সিটির আইকনিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো ও ইংল্যান্ড। আসরের শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীক্ষিত লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দলই তাদের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে এবং এখন লক্ষ্য চূড়ান্ত পর্বে উত্তরণের। আল জাজিরার তথ্যমতে, মেক্সিকো তাদের গ্রুপে প্রথম হয়ে এবং ইকুয়েডরকে পরাজিত করে শেষ ষোলোতে এসেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড তাদের গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করে এবং শেষ বত্রিশের রাউন্ডে কঙ্গোর বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামটি ফুটবল বিশ্বে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। এই মাঠেই ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত গোলটি হয়েছিল, যা ইংল্যান্ড সমর্থকদের কাছে আজও বেদনাদায়ক স্মৃতি হিসেবে পরিচিত। রবিবার দুই দেশের খেলোয়াড়রা যখন মাঠে নামবে, তখন ইতিহাসের সেই পুরনো স্মৃতির সাথে নতুন করে লড়াইয়ের উত্তেজনা যুক্ত হবে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে খেলাটি ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। উচ্চতার কারণে বলের গতিবিধি ও খেলোয়াড়দের শারীরিক সহনশীলতায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইংল্যান্ড দলের সাফল্যের বড় ভরসা হ্যারি কেইন। শেষ ষোলোর পথে কঙ্গোর বিপক্ষে চাপের মুখে তার জোড়া গোলই ইংল্যান্ডকে জয় এনে দিয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে দলের প্রয়োজনে কেইন যেভাবে জ্বলে ওঠেন, আজকের ম্যাচেও তার ওপর বড় প্রত্যাশা থাকবে। ইংল্যান্ডের কোচ ও স্টাফরা মেক্সিকোর স্থানীয় দর্শকদের উত্তাল পরিবেশ সামলানোর জন্য কৌশল সাজাচ্ছেন। মেক্সিকো দলের জন্য এটি ঘরের মাঠের সুবিধা। তাদের স্থানীয় সমর্থকদের উন্মাদনা ও আজতেকার পরিবেশ ইংল্যান্ডের জন্য বড় বাধা হতে পারে।
মেক্সিকো ১৯৯৪ সালের পর থেকে প্রথমবারের মতো এমন বড় মঞ্চে নকআউট ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাদের দলীয় পারফরম্যান্স ও গোল করার সক্ষমতা গত কয়েক ম্যাচে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অপরপক্ষে, ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয় আজকের ম্যাচে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা আজ টেলিভিশন পর্দায় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিকে নজর রাখবে। জয়ী দল পরবর্তী ধাপে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে। বিশ্বকাপের এই পর্যায় প্রতিটি ভুলই হতে পারে দলগুলোর জন্য শেষ ভুল। তাই দুই দলই সতর্ক এবং জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। সব মিলিয়ে মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ডের আজকের লড়াইটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
