চীন তার অন্যতম সুপরিচিত আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চের প্রতিষ্ঠাতা যাজক এজরা জিন মিংরিকে দীর্ঘ কয়েক মাস আটক রাখার পর মুক্তি দিয়েছে। যাজকের পরিবার এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি গোষ্ঠী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চায়না এইড নামক সংস্থাটি জানিয়েছে যে, বেজিংয়ের জিওন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা যাজক এজরা জিন ৪ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন। গত অক্টোবর মাস থেকে তিনি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেইহাইয়ের একটি বন্দী শিবিরে আটক ছিলেন। চায়না এইড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, কারাগারে বন্দী এই যাজকের মুক্তি তাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের একটি বিষয় এবং তিনি নিরাপদে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পেরেছেন।
এজরা জিন ২০০৭ সালে বেজিংয়ে জিওন চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন। দ্রুতই তিনি চীনের আন্ডারগ্রাউন্ড খ্রিস্টান আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। জিওন চার্চ চীনের সবচেয়ে বড় নিবন্ধিত নয় এমন বা আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ধরনের চার্চগুলো সরকারি নিবন্ধনের নিয়ম মানতে অস্বীকৃতি জানায়, যা তাদের বিশ্বাসের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১৮ সালে কর্তৃপক্ষ এই চার্চের কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্ধারিত স্থানটি বন্ধ করে দিলেও অনলাইনে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল, যার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল।
গত বছর চীনের কর্তৃপক্ষের চালানো ব্যাপক ধরপাকড়ের সময় এজরা জিন এবং চার্চের অন্য নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় আঠারো জন চার্চ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের ওপর তথ্য নেটওয়ার্ক অবৈধভাবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়। জিনের পরিবার জানিয়েছে, এটি তাদের কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো। তারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় অত্যন্ত আনন্দের কথা প্রকাশ করেছেন। তারা এই সাফল্যের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
গ্রেস জিন জানিয়েছেন, মে মাসে বেইজিং সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে এই যাজকের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট শি এই যাজকের মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। জিনের পরিবার অন্য একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মুক্তি সম্ভব ছিল না। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ঘটনা চীনের বিশ্বাসী মানুষ এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় বিভাগের উপ-পরিচালক মায়া ওয়াং এই মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে জিওন চার্চের আরও কয়েকজন সদস্য এখনো বন্দী অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে জিওন চার্চের অন্তত আটজন সদস্য এখনো চীনে বন্দী আছেন এবং তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।
