শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকে ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনি নিহত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৫, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংকে ইসরায়েলি অভিযানে ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর পৃথক বর্বরোচিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোররাতে অন্তত দুই জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য मंत्रालय নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি এবং আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩২ বছর বয়সী মুস্তাফা তাহা মুস্তাফা আল-খতিব নামের এক ফিলিস্তিনি যুবক রয়েছেন যাকে সালফিত জেলার সার্তা গ্রামে তার নিজের বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে যে দখলদার বাহিনীর সদস্যরা গভীর রাতে আকস্পিকভাবে তার বাড়িতে অভিযান চালায় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত মুস্তাফা আল-খতিবের চাচা ইয়াসিন খতিব আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পৈশাচিক ঘটনাকে একটি ঠাণ্ডা মাথার সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভাঙা দরজা এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখে এটি স্পষ্ট যে ইসরায়েলি সেনারা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করেছিল এবং তাকে পোশাক পরার বা দরজা খোলার ন্যূনতম সময়টুকুও দেয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন যে মুস্তাফা জর্ডান এবং ফিলিস্তিন উভয় দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করতেন এবং তিনি গত ২ বছর আগে জর্ডান থেকে ফিরে এসে স্থানীয়ভাবে কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। কোনো ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তার কোনো ধরনের দূরতম সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা ছিল না বলে তার পরিবার দৃঢ়ভাবে দাবি করেছে।

ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে যে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর ইসরায়েলি সৈন্যরা মুস্তাফার ঘর লণ্ডভণ্ড করে এবং তার মৃতদেহ ঘরের ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন যে ঘটনার পর রক্তস্নাত মুস্তাফাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের কর্মীদের প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এএফপি-কে জানিয়েছে যে ওই এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় সৈন্যদের লক্ষ্য করে বস্তু ছুড়ে মারার কারণে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছিল। যা কম স্পষ্ট তা হলো গাজা উপত্যকায় সংঘটিত অপর পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনাটিতে ঠিক কতজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং সেখানে আগ্রাসনের প্রকৃত কারণ কী ছিল।

ওয়েস্ট ব্যাংকের এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি হেব্রনের উত্তরাঞ্চলের হালহুল নামক এলাকায় উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডবের খবর পাওয়া গেছে। একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি উচ্ছেদ করার পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় ৩৫ জন মুখোশধারী ইহুদি বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে নির্বিচারে পাথর ছুড়তে শুরু করে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম হ্যারেটজ জানিয়েছে যে এই উগ্রপন্থীরা ফিলিস্তিনিদের আবাসিক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা চালায় এবং স্থানীয়দের সম্পদ ধ্বংস করে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়মিত নৈশকালীন অভিযান এবং উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের উপর্যুপরি বর্বরোচিত হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

banner
Link copied!