বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিক্রি করে দিয়েছেন ইনফান্তিনো: ফিলিপ লাম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৪, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ বিক্রি করে দিয়েছেন ইনফান্তিনো: ফিলিপ লাম

জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল কিংবদন্তি ফিলিপ লাম বুধবার বার্লিনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের তীব্র সমালোচনা করে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আসরটি বিক্রি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন বলে স্থানীয় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আধুনিক ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং সাধারণ সমর্থকদের মাঠের অভিজ্ঞতার চেয়ে অর্থ উপার্জনের বিষয়টিকে ফিফা কর্তৃপক্ষ বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে সাবেক এই রক্ষণভাগের তারকা মনে করেন। ২০১৪ সালে জার্মানির হয়ে বিশ্বজয় করা এই কিংবদন্তি অধিনায়ক জানান যে ফিফার বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের কারণে ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী তীব্র অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন এবং তাদের জন্য ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সাথে মাঠের মূল ফুটবল টুর্নামেন্টকে আলাদা করে দেখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

আসন্ন ২০২৬ সালের আসরটি ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মোট ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে পূর্ববর্তী আসরগুলোতে মাত্র ৩২টি দল চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেত। দল সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সমগ্র টুর্নামেন্টে সর্বমোট ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে যা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফিলিপ লামের মতে এই বিশাল সম্প্রসারণ মূলত টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, অতিরিক্ত বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ এবং বিভিন্ন বিপণন কার্যক্রম থেকে ফিফার বিপুল অর্থ আয়ের একচেটিয়া সুযোগ তৈরি করার জন্য করা হয়েছে। প্রতি দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করার যে বিতর্কিত প্রস্তাব ফিফা সভাপতি বারবার ফুটবল বিশ্বের সামনে নিয়ে আসছেন তা টুর্নামেন্টের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে চিরতরে ধ্বংস করবে বলেও তিনি বিশেষভাবে মন্তব্য করেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সাবেক খেলোয়াড়দের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ফিফা প্রশাসন তাদের এই চরম বাজারমুখী সম্প্রসারণ নীতি থেকে ভবিষ্যতে সরে আসবে কিনা। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের এই ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করে আসছে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী ৪৮টি দলের এই নতুন বিন্যাস ফুটবল খেলাটিকে বিশ্বব্যাপী আরও বেশি জনপ্রিয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈশ্বিক করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, এশিয়া এবং কনকাকাফ অঞ্চলের তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অনুন্নত দেশগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের খেলার দক্ষতা প্রদর্শনের এক অসাধারণ সুযোগ লাভ করবে যা বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে অবদান রাখবে।

ফুটবল শুধুমাত্র একটি মাঠের সাধারণ লড়াই বা বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানির মুনাফা অর্জনের বাণিজ্যিক পণ্য নয় বরং এটি কোটি মানুষের আবেগ, নিজস্ব সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে সাবেক এই জার্মান তারকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অতিরিক্ত ম্যাচ ও অতিরিক্ত দল অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বিশ্বকাপের যে চার বছর পর পর সীমিত দেশের অংশগ্রহণের এক অনন্য সৌন্দর্য ছিল তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আসন্ন মেগা টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফুটবলারদের ফিটনেস এবং অতিরিক্ত ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে মাঠের বাইরে সমালোচনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। লাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে একটি টুর্নামেন্টের দীর্ঘস্থায়ী বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখতে হলে এর প্রস্তুতি এবং খেলা পরবর্তী সঠিক মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ফিফার এই অতি-বাণিজ্যিক মনোভাব সাধারণ মানুষের মন থেকে ফুটবল বিশ্বকাপের বিশেষত্ব চিরতরে হারিয়ে দেবে বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

banner
Link copied!