ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকস বুধবার ট্রেন্ট ব্রিজে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টের আগে দলটি গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে বলে বিবিসি স্পোর্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এবং তরুণ পেস বোলার গাস অ্যাটকিনসন লন্ডনের একটি নাইটক্লাবের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তের পর পুনরায় জাতীয় দলে ফিরে এসেছেন। ওভালের দ্বিতীয় টেস্টে তাদের আকস্মিক অনুপস্থিতির পর এই ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং ক্রিকেট ডিরেক্টর রব কির অধীনে এই ইংলিশ টিম ম্যানেজমেন্ট তাদের ক্রিকেটীয় অবস্থান ধরে রাখতে ট্রেন্ট ব্রিজে মরিয়া হয়ে লড়বে।
চলতি সপ্তাহে কিউইদের বিরুদ্ধে পরাজয় বরণ করলে তা হবে বিগত নয়টি টেস্টের মধ্যে ইংল্যান্ডের জন্য সপ্তম পরাজয় যা তাদের ক্রিকেটীয় সুনামের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এর ফলে ২০১২ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে কমপক্ষে তিনটি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের এক লজ্জাজনক রেকর্ড গড়বে ইংলিশরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চার এক ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজে বিপর্যয়ের পরও ক্রিকেট বোর্ড স্টোকস ও ম্যাককালামের ওপর আস্থা বজায় রেখেছিল। অধিনায়ক স্টোকস গণমাধ্যমকে বলেছেন যে এই মুহূর্তে দলের ওপর চাপ অনেক বেড়ে গেছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করাই একজন ভালো নেতার প্রধান কাজ। তিনি আরও যোগ করেন যে তারা এই উচ্চ চাপকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং এখন মাঠে নেমে ম্যাচ জেতাই তাদের মূল লক্ষ্য।
লন্ডনের নাইটক্লাবের ওই রাতের ঘটনার পর এই প্রথম অধিনায়ক স্টোকস জনসমুখে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করলেন এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন। ওই ঘটনায় দলের একজন নিরাপত্তা কর্মীকে সারেসেন্স রাগবি ক্লাবের একজন খেলোয়াড় আঘাত করেছিলেন এবং স্টোকসরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড তথা ইসিবি তদন্ত শেষে জানিয়েছে যে স্টোকস এবং অ্যাটকিনসন চুক্তিভিত্তিক সান্ধ্যকালীন সময়সীমা বা কারফিউ লঙ্ঘন করলেও কোনো ধরনের সহিংস আচরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের সমস্ত অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়ার পর এই দুই খেলোয়াড়কে পুনরায় টেস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ট্রেন্ট ব্রিজে আসন্ন তৃতীয় টেস্টের জন্য ইংল্যান্ডের ঘোষিত একাদশে যে চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে তার মধ্যে স্টোকসের প্রত্যাবর্তন সবচেয়ে বড় খবর।
যা কম স্পষ্ট তা হলো মাঠের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও তদন্তের মানসিক চাপ দলটির খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কোনো দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সিরিজ বাঁচাতে হলে ইংল্যান্ডকে তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী এখন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন। ইসিবি কর্মকর্তাদের দেওয়া লিখিত সতর্কবার্তার পর স্টোকস এবং তার দলের খেলোয়াড়রা এখন মাঠের খেলায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান। ট্রেন্ট ব্রিজের পিচ এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি ব্যাটসম্যানদের পক্ষে থাকবে নাকি বোলাররা সুবিধা পাবেন তা নিয়েও স্থানীয় ক্রীড়া মহলে নানা সমীকরণ চলছে।
