মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

আদালতের নির্দেশে কেনিয়ায় মার্কিন ইবোলা কেন্দ্র স্থগিত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৩, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

আদালতের নির্দেশে কেনিয়ায় মার্কিন ইবোলা কেন্দ্র স্থগিত

কেনিয়া সরকার মঙ্গলবার দেশটির লায়কিপিয়া বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ও পরিচালনায় নির্মাণাধীন একটি ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের কাজ পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদেন দুয়ালে আদালতকে নিশ্চিত করেছেন, আল জাজিরা এবং এএফপি জানিয়েছে। আদালতের পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশ অমান্য করায় আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। বিতর্কিত এই প্রকল্পটির বিরুদ্ধে কেনিয়ার সাধারণ নাগরিক ও চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মুখে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভাব্য মার্কিন নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইন বা বিচ্ছিন্ন রাখার জন্য এই কেন্দ্রটি তৈরি করা হচ্ছিল। রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লায়কিপিয়া বিমান ঘাঁটিতে ৫০টি শয্যাবিশিষ্ট এই বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব চিকিৎসাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদেন দুয়ালে আদালতে শুনানির সময় স্পষ্ট করে বলেন যে মূল পিটিশন বা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লায়কিপিয়া বিমান ঘাঁটির যেকোনো ধরনের নির্মাণ কাজ, সাইট তৈরি বা সংশ্লিষ্ট সমস্ত কার্যক্রম অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মে মাসের শেষ দিকে এবং জুনের শুরুতে আদালতের দেওয়া একাধিক স্থগিতাদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব না দেওয়ায় আদালত তাকে তিরস্কার করে। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো আদালতে আবেদন জানিয়েছিল যে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রকল্পটি সাধারণ মানুষের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা জনমত যাচাই ছাড়াই সম্পূর্ণ গোপনে তৈরি করা হচ্ছিল। কেনিয়ার স্থানীয় ডাক্তার এবং চিকিৎসা পেশাদাররা এই প্রস্তাবিত কেন্দ্রের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছেন যে এটি দেশের এমনিতেই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে।

এই কেন্দ্রটিকে কেন্দ্র করে লায়কিপিয়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক সহিংসতায় ইতিমধ্যে অন্তত ৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় জনগণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে দেশে এখনো কোনো ইবোলা রোগী শনাক্ত না হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে এই মারাত্মক ভাইরাস আমদানির ঝুঁকি কেনিয়া সরকার কেন নিচ্ছে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইবোলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে দেওয়া ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের অনুদান গ্রহণকে এই গোপন চুক্তির এক ধরনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে গত মে মাসে ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে ২২ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮ জন আক্রান্ত এবং ২৬৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে যার মধ্যে ৭৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৭ জন মারা গেছেন।

নিকটবর্তী দেশ উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ২০ জন আক্রান্ত এবং ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে তবে কেনিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ইবোলা রোগী পাওয়া যায়নি। যা কম স্পষ্ট তা হলো আদালতের এই সাময়িক স্থগিতাদেশের পর কেনিয়া সরকার মার্কিন প্রশাসনের সাথে তাদের এই যৌথ সামরিক ও চিকিৎসা চুক্তিটি স্থায়ীভাবে বাতিল করবে নাকি জনরোষ কমার পর পুনরায় এর কার্যক্রম শুরু করার পথ খুঁজবে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কারণ এই সিদ্ধান্তটি আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক ও চিকিৎসা প্রভাবের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

banner
Link copied!