পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কেন্দ্র করে সতীর্থদের পাস না দেওয়ার গুঞ্জন এবং অভ্যন্তরীণ কৌশল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মঙ্গলবার দিনাজপুর টিভির আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মাঠের পারফরম্যান্স এবং দলের ভেতর তাঁর প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি ম্যাচের আগে সাধারণত এক বা দুটি সংবাদ সম্মেলন করা হলেও এবার পর্তুগাল দলকে মোট চারটি সেশনে অংশ নিতে হয়েছে যা বেশ অস্বাভাবিক। প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনেই গণমাধ্যমের মূল আলোচনার বিষয় ছিল এই মহাতারকার দলে থাকা এবং তাঁর বর্তমান কার্যকারিতা।
দলের তরুণ ফুটবলার ফ্রান্সিসকো কনসাইসাও এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং মাঠের পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান যে মাঠে রোনালদোকে পাস দিতে কোনো খেলোয়াড় বাধ্য নন এবং দলের সবাই স্বাধীনভাবে খেলছেন। তাঁর মতে যখন যে খেলোয়াড় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন মাঠের সিদ্ধান্ত ঠিক সেভাবেই নেওয়া হবে। দলের জয়ের জন্য ব্যক্তিগত অহংকারকে পাশে ঠেলে সবাই খেলছেন বলে মনে করেন দলের অভ্যন্তরীণ সংশ্লিষ্টরা। তবে সতীর্থদের এমন স্পষ্ট মন্তব্য ফুটবল পাড়ায় নতুন করে গুঞ্জনের ডালপালা মেলে দিয়েছে এবং ভক্তদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যা দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় ফুটবল কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মূলত একজন গোলমুখী স্ট্রাইকার যিনি পেনাল্টি বক্সে বল পেলে সতীর্থদের সহজে পাস দিতে চাননা। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির মতো মাঠে ছান্দিক পাসিং বা নিচে নেমে খেলার প্রবণতা এই পর্তুগিজ তারকার মধ্যে অত্যন্ত কম দেখা যায়। বিগত ম্যাচে রোনালদোকে মাত্র ১০ থেকে ১২ গজের গণ্ডির ভেতর খেলতে দেখা গেছে যেখানে তিনি উইং বা রক্ষণভাগকে সাহায্য করতে একদমই নিচে নামেননি। এর ফলে মিডফিল্ড থেকে প্রয়োজনীয় ক্রস বা সাপ্লাই পেতেও নানামুখী সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে ফুটবল বিশ্লেষকেরা মনে করছেন এবং দলের আক্রমণের ধার কমে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শক্তিশালী পর্তুগাল যা এই প্রজন্মের সেরা দলটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইতালির সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী তারকা ফুটবলার ফ্যাবিও কানাভারোর অধীনে থাকা উজবেক দলটির বিরুদ্ধে জয় পাওয়া পর্তুগালের জন্য এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের মধ্যকার এমন মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন খেলোয়াড়দের খেলায় কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনেক সংশয় রয়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো আসন্ন নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে কোচ তাঁর কৌশল পরিবর্তন করবেন নাকি এই তারকা স্ট্রাইকারকে ঘিরেই পুরো পরিকল্পনা সাজাবেন।
ফুটবল ভক্তরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাঠের এই জটিল পরিস্থিতি কাটিয়ে পর্তুগাল কীভাবে নিজেদের পুরোনো ফর্মে ফিরে আসে তা দেখার জন্য। এই ম্যাচটি পর্তুগালের জন্য তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং শক্তি প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে যা তাদের ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় তৈরি করতে পারে। বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক এখন তাকিয়ে আছেন এই মহাতারকার দিকে যিনি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সকল সমালোচনার জবাব দিতে পারেন কিনা তা দেখার জন্য।
