মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

পেনাল্টি মিসের পর গোল করে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন লিওনেল মেসি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২২, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

পেনাল্টি মিসের পর গোল করে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন লিওনেল মেসি

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। প্রথমার্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় অর্ধের চমৎকার এক জাদুকরী মুহূর্তে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডালাসের মাঠ থেকে সরাসরি ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের বিখ্যাত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টেয়ার ব্রুস-বল এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে এটি এই খুদে জাদুকরের ক্যারিয়ারে আরেকটি অনন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই কষ্টার্জিত জয়ের ফলে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রাউন্ডে নিজেদের স্থান চূড়ান্ত করে নিয়েছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা চলাকালীন আর্জেন্টিনা যখন একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে তখন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছিল। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কড়া পাহাড়ার মধ্যে পেনাল্টি থেকে মেসির নেওয়া শটটি অত্যন্ত দুর্বল ছিল যা সহজেই প্রতিহত করেন অস্ট্রিয়ান গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের খেলা শূন্য-শূন্য সমতায় শেষ হওয়ায় গ্যালারিতে উপস্থিত আকাশী-নীল সমর্থকদের মাঝে এক ধরনের চাপা নীরবতা ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা দল এবং অধিনায়ক মেসি নিজের পুরোনো ভুলকে সুনিপুণভাবে শুধরে নিয়ে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে বল জালে জড়াতে সক্ষম হন। এই একক নৈপুণ্যের গোলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড বইকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্লিখন করতে বাধ্য করেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো চোটের কারণে দলের নিয়মিত রক্ষণভাগের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় গঞ্জালো মন্তিয়েল না খেলায় দলের সামগ্রিক কৌশলে কোনো বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল কি না। কোচ লিওনেল স্কালোনি মন্তিয়েলের পরিবর্তে নাহুয়েল মলিনাকে মাঠে নামিয়ে রক্ষণভাগকে সাময়িকভাবে সুরক্ষিত রাখতে পেরেছিলেন। তবে প্রথমার্ধে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সাথে মাঝমাঠের সমন্বয়ের অভাব বেশ স্পষ্ট ছিল যা দ্বিতীয় অর্ধে স্কালোনির বিশেষ রণকৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়। রদ্রিগো ডি পল এবং হুলিয়ান আলভারেজের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা মাঠের ভেতরে অধিনায়কের চারপাশে এক অভূতপূর্ব সুরক্ষাবলয় তৈরি করেছিলেন যা মেসিকে স্বাধীনভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে সাহায্য করেছে।

এই স্মরণীয় জয়ের ঠিক পূর্বেই আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার একটি ছোট শহর কুত্রাল কো-তে লিওনেল মেসির সম্মানার্থে ২৬ মিটার উঁচু এবং ৭০ টন ওজনের একটি বিশাল ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছিল যা ভক্তদের মাঝে এক বিশাল উদ্দীপনা তৈরি করে। মাঠের এই কঠিন লড়াই প্রমাণ করেছে যে বাইরের তীব্র উন্মাদনা অনেক সময় খেলোয়াড়দের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। তবে সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক বাধা পেরিয়ে এই আঠারো বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় মেসি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা। এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা এখন পরবর্তী রাউন্ডের কঠিন প্রতিপক্ষদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ মানসিকভাবে প্রস্তুত।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমী এখন উন্মুখ হয়ে আছেন ডালাসের এই জাদুকরী রাতের পর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নতুন কোনো কৌশল দেখার জন্য। অস্ট্রিয়ার শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্রতিরোধ ভেঙে এই জয়টি দলের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ক্রীড়া পণ্ডিতরা মনে করছেন। ফিফার আন্তর্জাতিক প্রোটোকল এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্জেন্টিনা দল আগামী দিনগুলোতে তাদের এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কঠোর অনুশীলন অব্যাহত রাখবে। ফুটবল ভক্তরা আশা করছেন যে অধিনায়কের এই অসাধারণ ফর্ম চলমান বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে।

banner
Link copied!