মদিনার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কায়রোর আল-আজহার আল-শরিফের গবেষকরা সোমবার মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত দোয়া ও আমলগুলো অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক স্কলাররা পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তারা উল্লেখ করেন যে সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক একটি ছোট নিদর্শন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়াই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মতকে যেকোনো কঠিন বিপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সর্বদা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সাহায্য প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনান আবি দাউদের একটি সহীহ বর্ণনায় এসেছে যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় একটি বিশেষ দোয়া তিনবার পাঠ করবে সে আসমান ও জমিনের সমস্ত আকস্মিক দুর্যোগ থেকে সম্পূর্ণ হেফাজতে থাকবে (সুনান আবি দাউদ, ৫০৮৮)। দোয়াটির অর্থ হলো আল্লাহর নামে যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। ইসলামিক স্কলাররা এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগের সময় মনে মনে আল্লাহর জিকির অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।
ভূমিকম্প বা অনুরূপ আকস্মিক দুর্যোগের সময় মাটির দিকে তাকিয়ে মহান আল্লাহর তাকবির অর্থাৎ আল্লাহু আকবর ধ্বনি দেওয়া এবং আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া ইসলামের একটি সুপরিচিত আমল। ইসলামিক আইনবিদরা সাধারণ মুসলমানদের এই ধরনের পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করার এবং সুরা আর-রহমানের বিখ্যাত আয়াত পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলো মূলত মানুষকে তাদের পাপকাজ থেকে ফিরে আসার এবং আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার একটি ঐশ্বরিক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। এই সময়গুলোতে বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত জরুরি বলে ওলামারা মনে করেন।
পবিত্র কোরআনের সুরা আরাফের একশত পঞ্চান্ন নম্বর আয়াতে যেকোনো বড় বিপদের সময় পাঠ করার জন্য একটি চমৎকার প্রার্থনা উল্লেখ করা হয়েছে (সূরা আল-আরাফ, ৭:১৫৫)। আয়াতে মহান আল্লাহর কাছে আরজি পেশ করে বলা হয়েছে যে আপনিই আমাদের একমাত্র রক্ষক সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের ওপর করুণা করুন কারণ আপনিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী। ইসলামিক চিন্তাবিদরা ব্যাখ্যা করেছেন যে এই আয়াতটি মূলত যেকোনো প্রাকৃতিক বা সামাজিক সংকটের সময় আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। মুমিন বান্দারা যখন নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে বিনম্রভাবে এই দোয়া পাঠ করে তখন মহান আল্লাহ তাদের ওপর থেকে আজাব তুলে নেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি এই আধ্যাত্মিক আমলগুলোকে বাস্তব জীবনে কতটা গুরুত্বের সাথে বজায় রাখছে। সমাজবিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে অনেক সময় মানুষ কেবল বস্তুগত সতর্কতার ওপর নির্ভর করে মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অবহেলা করে। তবে ইসলামিক স্কলাররা জোর দিয়ে বলেছেন যে বস্তুগত প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর শেখানো পথ অনুসরণ করাই প্রকৃত মুক্তির একমাত্র উপায়। অতএব প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই সমস্ত নির্দেশিত দোয়া ও আমলগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করা এবং সমাজকে পাপাচার থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা।
