বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশিত হলো ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

প্রকাশিত হলো ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

আগামী বছরের পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, তার সম্ভাব্য একটি সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জর্ডান নিউজের প্রতিবেদনে জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে হিজরি চৌদ্দ শত আটচল্লিশ সনের এই সম্ভাব্য তারিখগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরই রমজান মাস শুরুর আগে এই ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রকাশ করে থাকেন জ্যোতির্ববিদরা, যা বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আগামী বছরের আট ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি হিজরি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও একই দিনটিকে রমজানের প্রথম সম্ভাব্য দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সুনির্দিষ্ট হিসাব বলছে যে চৌদ্দ শত আটচল্লিশ হিজরি সনের শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখ অর্থাৎ ছয় ফেব্রুয়ারি শনিবার নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে ওই দিন খালি চোখে বা প্রযুক্তির সাহায্যে চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকায় শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করতে পারে।

শাবান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হলে সাত ফেব্রুয়ারি রবিবার হবে শাবান মাসের শেষ দিন এবং এর পরদিন অর্থাৎ আট ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। জর্ডান নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আগামী বছরের রমজান মাসটি উনত্রিশ দিনের হতে পারে। সেই সুবাদে আট মার্চ সোমবার রমজান মাস সমাপ্ত হতে পারে এবং তার পরদিন নয় মার্চ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইসলামি শরীয়ত এবং ফিকহশাস্ত্রের মূল নিয়ম অনুযায়ী, এই সমস্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবেই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এবং সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়ে থাকে।

ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে রোজা ও ঈদ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তুলনায় এক দিন পরে পালিত হয়ে থাকে। ফলে বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। অতীতেও দেখা গেছে যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই ধরনের সম্ভাব্য হিসাব অনেক সময় মিলে গেলেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসে কেবল দৃশ্যমান চাঁদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে। বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ এবং প্রথাগত পর্যবেক্ষণের এই সমন্বয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণে দারুণভাবে সহায়তা করে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা এখন থেকেই বরকতময় এই মাসের অপেক্ষায় প্রস্তুতি শুরু করে দেন। রমজান কেবল আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাসই নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য ধৈর্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা বয়ে আনে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই সম্ভাব্য সূচি প্রকাশের মাধ্যমে মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ছুটির দিন নির্ধারণের সুবিধা হয়ে থাকে। তবে চূড়ান্ত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং রোজা পালনের শুরুর বিষয়টি প্রতিটি দেশের স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আগামী দিনে এই সম্ভাব্য তারিখের সঙ্গে বাস্তবের মিল কতটা থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রযুক্তির আধুনিকায়নের যুগে জ্যোতির্ববিদ্যার এই গণনাগুলো অত্যন্ত নিখুঁত হলেও ইসলামি ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি সর্বদা চাঁদ দেখার ওপরই প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলিম অত্যন্ত ইমানের সঙ্গে এই পবিত্র মাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সঠিক সময়ে নতুন চাঁদ ওঠার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কাঙ্ক্ষিত সেই বরকতময় মুহূর্ত, যা মানুষের জীবনে নিয়ে আসবে অনাবিল শান্তি ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি।

banner
Link copied!