ফুটবল জগতের অন্যতম আলোচিত সংবাদ হিসেবে ইতালীয় জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ কোচ রবার্তো মানচিনি। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সফলভাবে দলটির প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করা মানচিনি এবার জেন্নাকো গাত্তুসোর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন। গত এপ্রিল মাসে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হারের পর গাত্তুসো পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যার ফলে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।
ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ষাটোর্ধ্ব রবার্তো মানচিনি তার দীর্ঘ কর্মজীবনে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তার প্রথম মেয়াদে তিনি ইতালি দলকে মোট আটান্নটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং ২০২১ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করেছিলেন। ইন্টার মিলান, ফিওরেন্টিনার মতো ক্লাব পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব পালন করে ২০১১ থেকে ২০১২ মৌসুমে ক্লাবটিকে ঐতিহাসিক লিগ শিরোপা উপহার দিয়েছিলেন।
এদিকে কোচ নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। এর আগে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রযুক্তিগত পরিচালক পাওলো মালদিনি এবং উপদেষ্টা লিয়ান্দো তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। রাশিয়ার একটি জুয়া কোম্পানির সাথে সংযোগ থাকার কারণে ফেডারেশন প্রথম পছন্দের প্রার্থী আন্দ্রে পিরলোর নিয়োগ আটকে দেওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি বিশ্বের অন্যতম সফল কোচ পেপ গার্দিওলাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি চলতি মাসেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।
টানা ব্যর্থতা এবং বাছাইপর্বে লজ্জাজনক হারের পর ইতালীয় ফুটবল অঙ্গনে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছিল। মানচিনির এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দলটি তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে সমর্থকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন এই কোচিং স্টাফ কীভাবে দল পরিচালনা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দলটিকে নতুন করে পুনর্গঠন করার কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং আগামী ম্যাচগুলোতে আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফুটবল বিশ্বে রবার্তো মানচিনির অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত দক্ষতা অত্যন্ত সমাদৃত। তার এই দ্বিতীয় মেয়াদী দায়িত্ব গ্রহণের খবরটি ইতালীয় ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে তাকে শুরু থেকেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বিশ্বমঞ্চে ইতালির ঐতিহ্যবাহী স্থান পুনরুদ্ধার করার এই কঠিন যাত্রায় মানচিনি কতখানি সফল হন, তা সময়ই বলে দেবে।
