বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতের বীরভূমে সাবেক বাসচালকের বাড়ি থেকে বিপুল সম্পদ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ভারতের বীরভূমে সাবেক বাসচালকের বাড়ি থেকে বিপুল সম্পদ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বাসচালকের বাড়ি থেকে কোটি কোটি নগদ টাকা এবং পনেরো কেজি সোনা জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশ যে দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় কুড়ি কোটি টাকা। এই আকস্মিক অভিযানে গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে বীরভূমের মহম্মদবাজার এলাকায় অবস্থিত ওই বাসচালকের বাড়িতে যৌথভাবে অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। মিনার মণ্ডল নামের ওই সাবেক সরকারি বাসচালক কিছুদিন আগেই চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই সাধারণ পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল বিশাল সম্পত্তির পাহাড়। তল্লাশি শুরু হওয়ার পর রাত গড়িয়ে সকাল হলেও নোট গোনার কাজ শেষ হয়নি। বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ গণনার জন্য শেষ পর্যন্ত পাঁচটি আধুনিক নোট গোনার মেশিন ঘটনাস্থলে আনতে বাধ্য হয় পুলিশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে মিনার মণ্ডল কেবল একজন সাধারণ বাসচালকই ছিলেন না, বরং তার মূল ব্যবসা ছিল পাথর ও বালি সংক্রান্ত। বীরভূমের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। টুলু মণ্ডলের একাধিক পাথর খনির কারবারের সঙ্গে মিনার মণ্ডলের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তদন্তকারীদের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্যই সুকৌশলে এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার পাহাড় মিনারের সাধারণ বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আরও জোরালো করা হয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন এবং বেআইনি সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে যে একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হলো।

গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন যে এই অর্থের উৎস ঠিক কোথায় এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে। অতীতেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়েছিল। বর্তমান এই ঘটনা সেই পুরোনো বিতর্কগুলোকে আবারও উসকে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকা বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ কীভাবে ব্যক্তিগত গুদামে জমা হচ্ছিল, তা উদঘাটনের জন্য সাইবার সেল এবং আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। আগামী দিনে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গের এই দুর্নীতির ঘটনা কেবল স্থানীয় রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সুশাসন এবং স্বচ্ছতার দাবিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ এখন বিচার বিভাগের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি এবং উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির সঠিক উৎস সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার আড়ালে চলা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের শেষ পরিণতি কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

banner
Link copied!