সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

৯২ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম ঐতিহাসিক জয়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২২, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

৯২ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপে মিশরের প্রথম ঐতিহাসিক জয়

উত্তর আমেরিকার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৯২ বছরের দীর্ঘ খরা কাটিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মিশর, রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ সোমবার নিশ্চিত করেছে। কানাডার ভ্যাঙ্কuভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ জির এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে নকআউট পর্বের দৌড়ে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেছে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি। অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর চমৎকার পারফরম্যান্সে ভর করে ফারাওরা এই অনন্য কীর্তি গড়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে হসাম হাসানের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরুটা মিশরের জন্য মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটে নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ফিন সুরম্যান একটি চমৎকার সেট পিস থেকে গোল করে তার দলকে এগিয়ে দেন। এই আকস্মিক গোল ভ্যাঙ্কুভারের স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার মিশরীয় সমর্থককে স্তব্ধ করে দেয়। প্রথমার্ধের পুরোটা সময় জুড়েই কিউইরা বেশ সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে এবং মিশরের আক্রমণভাগকে কড়া পাহারায় রেখেছিল। বিশেষ করে মিশরের তারকা ফরোয়ার্ড ও লিভারপুলের আইকন মোহাম্মদ সালাহ প্রথমার্ধে নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পেতে বেশ লড়াই করছিলেন। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার সময় মনে হচ্ছিল মিশরকে হয়তো আরও একটি হতাশাজনক রাত পার করতে হবে।

বিরতির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে ইজিপ্ট দল। খেলোয়াড়দের মাঝে এক ধরনের তাগিদ লক্ষ্য করা গেছে যা ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর একটি দুর্দান্ত হেড কিউইদের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে মিশরকে সমতায় ফেরায়। এই গোলের পর ম্যাচ জুড়েই উত্তর আফ্রিকান দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা অল হোয়াইটসদের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। নিউ জিল্যান্ডের ফুটবলাররা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন ঠিক তখনই নিজের জাত চেনান বিশ্বসেরা তারকা সালাহ।

ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর সাথে চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সালাহ এবং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এটি ছিল বিশ্বকাপে সালাহর ক্যারিয়ারের তৃতীয় গোল যা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে দেয়। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ৮২ মিনিটে সালাহর নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার কিক থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন বদলি খেলোয়াড় ত্রেজেগে। এই তৃতীয় গোলের মাধ্যমে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ধারিত হয়ে যায় এবং মিশর তাদের ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘতম অপেক্ষার অবসান ঘটায়।

১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে মিশর এর আগে আরও তিনটি আসরে অংশ নিলেও কখনো কোনো জয়ের মুখ দেখেনি। পূর্ববর্তী ১৯৩৪, ১৯৯০ এবং ২০১৮ সালের আসরগুলোতে তারা মোট সাতটি ম্যাচ খেলেও জয়হীন ছিল। ফুটবল বিশ্বে তাদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা নিয়ে অনেক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। এবারের ২০২৬ সালের আসরে খেলতে আসার সময় দলটির ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ কাজ করছিল। তবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষের এই জয় তাদের দীর্ঘ ৯২ বছরের আক্ষেপ দূর করে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। সালাহ ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এটি সকল খেলোয়াড়ের জন্য এক বিরাট অর্জন এবং তারা এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর গ্রুপ জির সমীকরণ এখন বেশ আকর্ষণীয় মোড় নিয়েছে। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিশর। অন্য দিকে বেলজিয়াম তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরানের সাথে ১০ জন নিয়ে লড়াই করে গোলশূন্য ড্র করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মিশর এবং আগামী শনিবার ইরানের বিপক্ষে মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই তারা শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারবে। যা কম স্পষ্ট তা হলো বেলজিয়াম তাদের শেষ ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ফেভারিট তকমা ধরে রেখে অনায়াসে জয় তুলে নিতে পারবে কি না। হসাম হাসানের দল এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

banner
Link copied!