ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আজ রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্পেন বনাম সৌদি আরব ফুটবল ম্যাচে তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল ১০ মিনিটে এক দুর্দান্ত গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নিয়েছেন বলে দিনাজপুর টিভি এবং আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশ দল ১-০ ব্যবধানে লিড নিয়ে মাঠের উত্তেজনা এক লাফে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর এই ম্যাচে জয় পাওয়া স্পেনের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং খেলার শুরুতেই এমন আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স তাদের সেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।
খেলার দশম মিনিটে সৌদি আরবের রক্ষণভাগের একটি ভুল গোল-কিক সরাসরি স্পেনের মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের কাছে ফিরে আসে। সেই সুযোগ হেলায় না হারিয়ে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল বাম প্রান্ত দিয়ে একটি চমৎকার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত গতিতে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ছুটে যান। তিনি সৌদি রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পরাস্ত করে গোলপোস্টের সামনে দিয়ে একটি নিখুঁত নিচু বল স্লাইড করে বাড়িয়ে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছনের পোস্টে ওত পেতে থাকা ১৮ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল চমৎকারভাবে স্লাইড করে বলটি প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন। সৌদি আরবের গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস বলটির গতিপথ পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ পাননি।
এই গোলের সুবাদে বার্সেলোনার তারকা লামিন ইয়ামাল চলতি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেলেন যা স্প্যানিশ শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ফিরেই তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন যা কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে ব্যাপক চাপের মুখে থাকা স্পেন আজ শুরু থেকেই অত্যন্ত গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। সৌদি আরবের রক্ষণভাগ ম্যাচের শুরুতেই এই গোল হজম করার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো ম্যাচের বাকি সময়ে স্পেনের এই আক্রমণাত্মক ধারা বজায় থাকবে নাকি সৌদি আরবের গ্রিন ফ্যালকনরা তাদের চেনা কাউন্টার অ্যাটাক দিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরাবে। সৌদি আরবের অভিজ্ঞ গ্রিক কোচ জর্জিয়স ডনিস ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সমীহ না করার যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা এই গোল খাওয়ার পর মাঠে কতটা কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রথমার্ধের শুরুতেই গোল পাওয়ায় স্পেনের খেলোয়াড়রা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে খেলার গতি ধীর করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য মোহাম্মদ কান্নোর ওপর ভরসা করে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রুপ এইচের এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার এক মহা পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
