রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

স্পেন বনাম সৌদি আরব ম্যাচ: ওলটপালটের খোঁজে গ্রিন ফ্যালকনস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২১, ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

স্পেন বনাম সৌদি আরব ম্যাচ: ওলটপালটের খোঁজে গ্রিন ফ্যালকনস

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অবস্থিত মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে সৌদি আরব, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। গ্রুপ এইচের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুই দলই ড্র করায় নকআউট পর্বের রেসে টিকে থাকার জন্য আজকের এই ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে চরম চাপে রয়েছে। অন্যদিকে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি উরুগুয়েকে আটকে দিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে মাঠে নামছে সৌদি আরবের গ্রিন ফ্যালকনরা।

স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সৌদি আরবের গ্রীক কোচ জর্জিয়স ডনিস তার খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সম্মান না দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে ঢাকা ট্রিবিউন তাদের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ডনিস জানান যে বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামা অবশ্যই গর্বের বিষয় এবং এই ধরনের বড় টুর্নামেন্টে খেলার আনন্দ উপভোগ করা উচিত। তিনি আরও বলেন যে প্রতিপক্ষকে সম্মান করা প্রয়োজন তবে তা যেন অতিরিক্ত মাত্রায় না হয়। সৌদি আরব তাদের ফুটবল ইতিহাসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মৃতি থেকে অনুপ্রেরণা খুঁজছে। ডনিস গত এপ্রিল মাসে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন এবং ফুটবল মাঠে আবারও কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটানোর স্বপ্ন দেখছেন।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর স্প্যানিশ শিবিরে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে যা দূর করতে কৌশল পরিবর্তন করছেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়া স্পেনের আক্রমণভাগকে আজকের ম্যাচে আরও ক্ষুরধার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে স্পেনের চেনা আক্রমণাত্মক শৈলীর কারণে প্রতিপক্ষ দলগুলো সাধারণত রক্ষণাত্মক কৌশল বা লো ব্লক বেছে নেয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে আগের ম্যাচে তাদের গতি এবং বল বণ্টনে মারাত্মক দুর্বলতা ছিল যা কাটিয়ে উঠতে অনুশীলনে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। আজকের ম্যাচে স্পেনের মূল ভরসা হতে পারেন তাদের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল, যিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সী বার্সেলোনার এই তারকা ফুটবলার লামিন ইয়ামালকে বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চোটের কারণে প্রথম ম্যাচে ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও আজকের ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে থাকতে পারেন বলে স্প্যানিশ টেলিভিশন টিভিই-এর সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে না খেলানোর সম্ভাবনাই বেশি। সৌদি আরবের কোচ জর্জিয়স ডনিসও ইয়ামালের প্রশংসা করে তাকে স্পেনের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। রক্ষণভাগে সৌদি আরব তাদের ঐতিহ্যবাহী ৪-৪-২ ফরমেশন বজায় রাখবে যেখানে গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস এবং ডিফেন্ডার হাসান তামবাক্তি স্প্যানিশ আক্রমণ রুখে দেওয়ার মূল দায়িত্বে থাকবেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো স্পেনের মাঝমাঠের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা সৌদি আরবের গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ কীভাবে সামাল দেবেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডার আবদুলেলাহ আল আমরির করা একমাত্র গোলে সৌদি আরব যেভাবে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছিল, তা স্পেনের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। সৌদি আরবের অভিজ্ঞ অধিনায়ক সালেম আল দাওসারি এবং মিডফিল্ডার মোহাম্মদ কান্নো মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে স্পেনের তারকা সমৃদ্ধ দলের জন্য ম্যাচ জেতা বেশ কঠিন হবে বলে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আজকের এই ম্যাচের ফলাফল গ্রুপ এইচের চূড়ান্ত সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এবং পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করবে। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আজ হাজার হাজার অভিবাসী সৌদি সমর্থক তাদের প্রিয় গ্রিন ফ্যালকনদের সমর্থন দিতে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সপ্তম বারের মতো অংশগ্রহণ করা সৌদি আরব আজ তাদের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করতে মরিয়া হয়ে আছে। স্পেনের মতো পরাশক্তিকে হারাতে পারলে তা হবে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ সৌদি আরবের ফুটবলের জন্য একটি বিরাট মাইলফলক। অন্য দিকে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের সোনালী প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে এখানে এসেছে। টানা দুটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর স্প্যানিশ সমর্থকরা এবার আর কোনো ভুল দেখতে চান না। আজকের এই ম্যাচটি কেবল মাঠের লড়াই নয় বরং এটি দুই ভিন্ন মহাদেশের ফুটবলীয় দর্শন ও কৌশলের এক মহা পরীক্ষা হতে চলেছে।

banner
Link copied!