যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আজ রবিবার স্পেন তাদের দুর্দান্ত আক্রমণের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ৩-০ গোলে পেছনে ফেলেছে বলে আল জাজিরা এবং দিনাজপুর টিভি নিশ্চিত করেছে। মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে চলমান এই হাইভোল্টেজ খেলায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণাত্মক ফুটবল কৌশলের সামনে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই স্প্যানিশ ফুটবলাররা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করতে থাকে যার ফলশ্রুতিতে প্রথমার্ধের শুরুতেই তারা তিন গোলের বিশাল ব্যবধান তৈরি করে। প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র করার মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে লা রোহারা আজ তাদের চেনা ছন্দে মাঠে আধিপত্য বিস্তার করছে যা গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের দারুণভাবে মোহিত করেছে।
খেলার মাত্র দশম মিনিটে তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালের চমৎকার গোলের পর তেইশ মিনিটের মাথায় স্ট্রাইকার মিকেল ওটিয়ারজাবাল নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে স্পেনের পক্ষে তৃতীয় গোলটি স্কোর করেন। ডান প্রান্ত থেকে তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি একটি চমৎকার দূরপাল্লার ক্রস বাড়িয়ে দেন প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ভেতরে। সেই মুহূর্তে দূরবর্তী পোস্টে থাকা লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেল্লা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বলটি মাঠের বাইরে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করে ভেতরে ধরে রাখেন। এরপর মধ্যমাঠের তারকা দানি ওলমো গোলপোস্টের একদম সামনে বলটি চমৎকার হেডের মাধ্যমে বাড়িয়ে দিলে সেখানে ওত পেতে থাকা ওটিয়ারজাবাল গোললাইনের খুব কাছ থেকে আলতো টোকা দিয়ে বলটি জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি যার ফলে গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
এই চোখধাঁধানো দলগত আক্রমণের সুবাদে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে নিজেদের লিড সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে নেয় স্প্যানিশরা। এর আগে ম্যাচের দশম মিনিটে সৌদি আরবের রক্ষণভাগের একটি ভুল গোল-কিক সরাসরি স্পেনের খেলোয়াড়দের কাছে ফিরে আসলে মিকেল ওটিয়ারজাবাল বাম প্রান্ত দিয়ে একটি পাস নিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে গিয়ে প্রথম গোলের উৎস তৈরি করেছিলেন। সৌদি আরবের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল ওয়াইস স্পেনের এই একের পর এক নিখুঁত ও গতিশীল আক্রমণ প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানোর পর আজ স্পেনের এই বিধ্বংসী রূপ গ্রুপ এইচের পয়েন্ট তালিকার সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে এবং নকআউট পর্বের সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করছে।
স্পেন বনাম সৌদি আরব দ্বৈরথে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আজ শুরু থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল সাজিয়েছেন। মাঝমাঠে পেদ্রি এবং দানি ওলমো ও মিকেল ওটিয়ারজাবালের নিখুঁত পাসিং সৌদি আরবের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের পজিশন ধরে রাখতে দেয়নি। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লামিন ইয়ামাল ডান প্রান্তে সার্বক্ষণিক ভীতি তৈরি করে রেখেছেন যার কারণে সৌদি ডিফেন্ডাররা ওটিয়ারজাবালকে কড়া পাহারায় রাখতে ব্যর্থ হন। এই বড় ব্যবধানের লিড পাওয়ার পর স্প্যানিশ সমর্থকরা গ্যালারিতে উৎসবে মেতে উঠেছেন এবং আটলান্টার স্টেডিয়ামটি এখন লাল উৎসবে পরিণত হয়েছে যা দেখতে অত্যন্ত মনোরম লাগছে।
ম্যাচের আগে সৌদি আরবের গ্রিক কোচ জর্জিয়স ডনিস তার খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সমীহ না করার যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, তা মাঠের বাস্তবতায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। উরুগুয়ের সাথে প্রথম ম্যাচে এক-এক গোলে ড্র করে আত্মবিশ্বাসী থাকা গ্রিন ফ্যালকনরা আজ স্পেনের মাঝমাঠের গতি নিয়ন্ত্রণের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব তাদের কৌশলে কী ধরনের পরিবর্তন এনে এই বিশাল ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারবে বা আদৌ স্পেনের রক্ষণভাগ ভেদ করতে সক্ষম হবে কিনা। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেলে স্পেন পরবর্তী নকআউট রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকখানি পরিষ্কার করে ফেলবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
