মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কঠিন শর্তের বেড়াজালে গাজায় শান্তি আলোচনা থমকে গেছে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৩, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

কঠিন শর্তের বেড়াজালে গাজায় শান্তি আলোচনা থমকে গেছে

গাজায় শান্তি আলোচনা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি এবং অস্ত্রোপশম প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সুড়ঙ্গপথের মানচিত্র ও ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র অস্ত্র হস্তান্তরের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’-এর নতুন দাবির মুখে কায়রোতে চরম অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বলে আল জাজিরা মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে। মিসরে চলমান এই শান্তি বৈঠকে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে গাজা ভূখণ্ডের উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ দাবি করেছেন যে গাজায় একটি বুলেটও অবশিষ্ট রাখা যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তদারকি সংস্থাটির এই সর্বোচ্চ দাবি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, সুড়ঙ্গের মানচিত্র সমর্পণ এবং গাজার সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় থাকা পারিবারিক ব্যক্তিগত বন্দুক হস্তান্তরের ওপর জোর দিচ্ছে, যা আলোচনাকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে।

কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার প্রধান জটিলতা তৈরি হয়েছে মূলত ‘অনুচ্ছেদ ৮’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারাকে কেন্দ্র করে, যা গত অক্টোবর ২০২৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি করা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার একটি প্রধান অংশ। এই নির্দিষ্ট ধারায় যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় নিরস্ত্রীকরণের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী, সামরিক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব একটি সমন্বিত ফিলিস্তিনি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আইনি রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গোপন সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে যে হামাস প্রাথমিকভাবে এই অনুচ্ছেদের প্রতি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিল এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা তাদের মজুদে থাকা ভারী রকেট, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং করনেট ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভারী অস্ত্রের তালিকা সমর্পণে সম্মত হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের এই অভূতপূর্ব নমনীয়তায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠলেও নতুন শর্তের কারণে সেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে নিরস্ত্রীকরণের এই অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে নিকোলাই ম্লাদেনভ মূলত গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলের আগ্রাসী ও একতরফা দাবিগুলোকেই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। তারা মনে করেন যে আন্তর্জাতিক শান্তি বোর্ডের এই অবস্থান ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষাকে চরম ঝুঁких মুখে ঠেলে দেবে এবং এটি ইসরাইলি গণহত্যার যুদ্ধকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৮০৩ এর অধীনে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বোর্ড অব পিস মূলত গাজার পুনর্গঠন ও বেসামরিক শাসন তদারকির জন্য তৈরি হলেও এর বর্তমান ভূমিকা ফিলিস্তিনি পক্ষগুলোর কাছে একটি বড় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিরোধ আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তারা তাদের আত্মরক্ষার অধিকার এবং গোপন সুড়ঙ্গ ব্যবস্থার নিরাপত্তা কোনো অবস্থاتها বহিরাগত শক্তির হাতে তুলে দেবেন না।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন প্রশাসনের এই অনমনীয় শর্তের কারণে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে নাকি মিসর, তুরস্ক এবং কাতারের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ওয়াশিংটনকে তাদের অবস্থান নরম করতে রাজি করাতে পারবে। political বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত বেসামরিক ঘরবাড়ি এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য এই আন্তর্জাতিক বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এই অনৈতিক শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চরম মানবিক সংকট, লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার পারদ শূন্যের নিচে থাকায় অদূর ভবিষ্যতে কোনো টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে বলে রয়টার্স এবং আল জাজিরা তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

banner
Link copied!