বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

মুখ ঢেকে কথা বলার নিয়ম: লাল কার্ড থেকে বাঁচলেন বেলিংহাম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২৪, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

মুখ ঢেকে কথা বলার নিয়ম: লাল কার্ড থেকে বাঁচলেন বেলিংহাম

ইংল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম গত মঙ্গলবার বোস্টনে ঘানার বিরুদ্ধে ম্যাচে মুখ ঢেকে কথা বলার পরও কেন লাল কার্ড পাননি, তা ব্যাখ্যা করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ। চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফিফার নতুন মুখ ঢেকে কথা বলার নিয়ম প্রবর্তনের পর এই ঘটনাটি ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাঠে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় জর্ডান আইইউর সাথে কথা বলার সময় বেলিংহাম নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন, যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে রেফারি বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআর এই ঘটনায় কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা কার্ডের নির্দেশ প্রদান করেনি।

ফিফার নতুন ডিসিপ্লিনারি কোড অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড় যদি মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষের সাথে কোনো ধরনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বা দ্বন্দ্বের সময় মুখ ঢেকে রাখেন, তবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিধান রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার সভাপতি গানি ইনফান্তিনো এই কঠোর নিয়মটি যুক্ত করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি ম্যাচে বেনফিকার উইঙ্গার জানলুকা প্রেস্তিয়ানি রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়রের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করার পর উয়েফা তাকে sechs ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। সেই বিতর্কিত ঘটনার পর মাঠে বৈষম্যমূলক আচরণ ও মৌখিক অপব্যবহার রোধে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে এই নতুন নিয়ম ভাঙার কারণে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সরাসরি লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে বেলিংহামের ঘটনাটি আলমিরনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল বলে ফুটবল রেফারিদের প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা স্পষ্ট করেছেন। বিশ্বকাপের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কলিনা জানিয়েছিলেন যে খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের বন্ধুদের সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করার সময় মুখ ঢাকতেই পারেন। যদি সেই আলোচনা কোনো দ্বন্দ্ব বা জানমালের ক্ষতি করার মতো ঝামেলার অংশ না হয়, তবে হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকা সম্পূর্ণ বৈধ এবং এতে কোনো নিয়মের লঙ্ঘন হবে না।

যা কম স্পষ্ট তা হলো ঘরোয়া লিগগুলোতে এই নিয়ম কতটুকু কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কারণ অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এই আইনের অপব্যবহার হতে পারে। প্যারাগুয়ের আলমিরন যখন তুরস্কের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরের সাথে কথা বলছিলেন, তখন মাঠে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আলমিরন শান্তভাবে কথা বললেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ভিএআর প্রধান রেফারিকে লাল কার্ড দেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং আলমিরন এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন। অন্যদিকে বোস্টনের ম্যাচে বেলিংহাম ও ঘানার জর্ডান আইইউর মধ্যে কোনো ধরনের শত্রুতা বা ক্ষোভ ছিল না, বরং তারা অত্যন্ত সাধারণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করছিলেন।

ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই নিয়মের ফলে খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলার সুযোগ পেতে পারেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা ইফাব গত এপ্রিল মাসে এই নিয়মটি অনুমোদন করলেও এটি বিশ্বের সকল ঘরোয়া লিগের জন্য বাধ্যতামূলক করেনি। বর্তমানে শুধুমাত্র ২০২৬ বিশ্বকাপে এই নিয়মটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত শূন্য শূন্য গোলে ড্র হয় এবং দুই দলই নকআউট পর্বের দৌড়ে সমানভাবে টিকে রয়েছে। জুড বেলিংহাম এই ম্যাচে চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার লাভ করলেও তার মুখ ঢাকার ঘটনাটি ফুটবল আইনের এক নতুন বিতর্কিত দিক উন্মচন করেছে।

banner
Link copied!