আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির বর্তমান জাদুকরী ফর্মের ভূয়সী প্রশংসা করে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি খেলোয়াড় রিভালদো একটি বিশেষ আবেগঘন বিবৃতি দিয়েছেন বলে বুধবার রাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দিনাজপুর টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের চমৎকার জয়ের পর এই সাবেক ব্রাজিলীয় তারকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের এই ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া ও গভীর মুগ্ধতা ব্যক্ত করেন। ওই হাইভোল্টেজ ম্যাচে লিওনেল মেসি একাই জোড়া গোল করে দলকে জেতাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন যা পুরো ক্রীড়া বিশ্বে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই ঐতিহাসিক প্রশংসার বিষয়টি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে প্রচার করার পর থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা রিভালদো তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে মাঠের সবুজ ঘাসের ভেতর মেসির করা অসাধারণ কাজগুলো কোনো সাধারণ মানুষের কাজ বলে মনে হয় না। প্রায় ৩৯ বছর বয়সে এসেও একজন পেশাদার খেলোয়াড় কীভাবে এত উচ্চমানের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেন এবং ধারাবাহিকভাবে নিজের সেরাটা ধরে রাখেন তা সত্যি এক অবিশ্বাস্য বিষয় বলে তিনি মনে করেন। একজন আজীবন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির এমন একটি বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য এক পরম সৌভাগ্যের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। নিজের দেশ ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আর্জেন্টিনাকে এই মেগা টুর্নামেন্টে সরাসরি সমর্থন না করলেও মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের প্রতি তার এই গভীর শ্রদ্ধাবোধ ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
চলতি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলে সর্বমোট ৫টি গোল সম্পন্ন করে গোলদাতার তালিকায় নিজের একক আধিপত্য ও অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছেন। রিভালদোর নিজস্ব গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী গত কাতার বিশ্বকাপে করা মোট ৭টি গোলোর অর্ধেকেরও বেশি এবার টুর্নামেন্টের একেবারে শুরুতেই করে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার এই অভিজ্ঞ অধিনায়ক। এই অবিশ্বাস্য গোল বন্যার মাধ্যমে ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর বিশ্ববাসীকে পুনরায় প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে আলবিসেলেস্তে দলের সাফল্যের জন্য তিনি এখনও কতটা অপরিহার্য ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। আর্জেন্টিনার এই টানা জয়ের ফলে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বহুলাংশে বেড়ে গেছে বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
যা কম স্পষ্ট তা হলো ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা লিওনেল মেসি এই নজিরবিহীন অবিশ্বাস্য ফর্ম পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অক্ষুণ্ণ রেখে আর্জেন্টিনাকে আরেকটি ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দিতে পারবেন কিনা। তবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল অনুরাগী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে মেসির এই বর্তমান আক্রমণাত্মক ছন্দ প্রতিপক্ষের যেকোনো শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিংবদন্তি রিভালদোর এই খোলামেলা ও আন্তরিক প্রশংসা প্রমাণ করে যে ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্য সমস্ত প্রথাগত জাতীয়তাবাদী দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করতে পারে। উত্তর আমেরিকার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মতো বিশ্বমানের মাঠগুলোতে এখন মেসির জাদুকরী ফুটবল শৈলী সরাসরি উপভোগ করার জন্য দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
এই মেগা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচগুলোকে ঘিরে ফুটবলারদের ফিটনেস এবং অতিরিক্ত ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে মাঠের বাইরে আলোচনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে আর্জেন্টিনার টিম ম্যানেজমেন্ট এবং প্রধান কোচ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে তারা দলের প্রধান তারকাকে সম্পূর্ণ ফিট রাখতে বিশেষ বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক পরিচর্যা পদ্ধতি নিশ্চিত করছেন। বিশ্বমঞ্চে ল্যাটিন আমেরিকান ফুটবলের রাজপুত্রদের এই অদম্য অগ্রযাত্রা প্রমাণ করে যে তারা এবারও ট্রফি ধরে রাখার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন। এখন ফুটবলপ্রেমী কোটি কোটি মানুষের চোখ থাকবে আর্জেন্টিনার আসন্ন ম্যাচগুলোর দিকে যেখানে নির্ধারিত হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ফুটবল ভাগ্য।
