ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ বৃহস্পতিবার আমেরিকার মিয়ামির মাঠে শক্তিশালী ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ড মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা অ্যানালিটিক্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে এই দুই চিরপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী আবারও একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে। এর আগে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে শেষবার যখন এই দুই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল তখন সেলেসাওরা ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করেছিল। দীর্ঘ তিন দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে দুই দলের কোটি কোটি সমর্থক ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফলাফল নিয়ে ফুটবল ডাটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অপটা তাদের বিখ্যাত সুপারকম্পিউটারের বিশেষ গাণিতিক সমীকরণ প্রকাশ করেছে। প্রায় ২৫ হাজার প্রাক-ম্যাচ সিমুলেশন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে সুপারকম্পিউটার জানিয়েছে যে এই ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে লড়াকু স্কটল্যান্ডের ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা মাত্র ১২ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৯০ মিনিটের মূল খেলাটি ড্র হওয়ার সুযোগ রয়েছে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ। পরিসংখ্যানের এই বিশাল ব্যবধান লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তিদের মানসিকভাবে বেশ এগিয়ে রাখবে বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ব্রাজিল শিবিরের জন্য এই ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় আনন্দের সুসংবাদ হলো চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরছেন দলের প্রধান ফুটবল তারকা নেইমার। দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে প্রথম দুটি ম্যাচ মিস করা এই সান্তোস তারকা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট আছেন। আক্রমণভাগে নেইমারের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনের শক্তি ও ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে ফুটবল পণ্ডিতরা মনে করছেন। গ্রুপ সি-এর বর্তমান জটিল পরিস্থিতিতে নকআউট পর্ব বা শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত করার জন্য দুই দলের কাছেই এই ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ ছন্দে ফিরেছে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখতে হলে ব্রাজিলকে আজ মরক্কোর সমান বা তার চেয়ে ভালো গোল ব্যবধান বজায় রাখতে হবে। অপরদিকে স্কটল্যান্ড প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারালেও পরের ম্যাচে মরক্কোর কাছে একই ব্যবধানের হারে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো স্কটিশ রক্ষণভাগ ব্রাজিলের তারকাখচিত আক্রমণভাগের গতি ও নেইমারের ড্রিবলিং দক্ষতা কতক্ষণ সফলভাবে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে আজ যদি স্কটিশরা একটি ঐতিহাসিক জয় তুলে নিতে পারে তবে গ্রুপ পর্বের শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হবে তাদের।
পরিসংখ্যান ও দলগত শক্তিতে ব্রাজিলকে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখলেও বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাস কিন্তু সেলেসাওদের জন্য একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচের পরাজয়ের রেকর্ডই এসেছে গ্রুপের শেষ বা তৃতীয় ম্যাচে যা তাদের চিন্তার কারণ হতে পারে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা ছিল কাতার বিশ্বকাপ সংস্করণে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয়। তাই উজ্জীবিত স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই আনচেলত্তির শিষ্যদের। পুরো স্কটল্যান্ড জুড়ে এখন ফুটবল উৎসবের আমেজ চলছে এবং হাজার হাজার সমর্থক দলের নীল জার্সি পরে আমেরিকায় খেলা দেখতে হাজির হয়েছেন।
