দীর্ঘ চোটের অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলের মূল মঞ্চে ফিরেছেন বলে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর টিভি এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। গত দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের পর থেকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর এটিই ছিল সেলেসাওদের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর মাঠে ফিরে চৌত্রিশ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ম্যাচ শেষে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই অশ্রুসিক্ত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ফুটবল বিশ্বে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচের ছিয়াত্তর মিনিটে স্ট্রাইকার মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে দশ নম্বর জার্সিধারী নেইমারকে মাঠে নামান সেলেসাওদের অভিজ্ঞ প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গ্যালারিতে উপস্থিত রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিও ও কাফুর মতো বিশ্বখ্যাত ব্রাজিলীয় ফুটবল কিংবদন্তিদের সামনে প্রায় বিশ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠে কাটান এই মহাতারকা। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে মাঠে বেশ কয়েকটি দারুণ আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি তিনি কর্নার শটও নেন যা দলে তার অনন্য নেতৃত্বের প্রভাব ও কার্যকারিতাকে পুনরায় ভক্তদের মাঝে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তার তরুণ সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এই বিশেষ ক্ষণটিকে তাদের ফুটবল আদর্শের এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় প্রত্যাবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরিও নেইমারের তাৎক্ষণিক প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার জন্য পুরো নব্বই মিনিট মাঠে থাকার কোনো প্রয়োজন হয় না।
নিজের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে civilisation ধ্বংসকারী ছয়টি মারাত্মক চোট সহ্য করেও বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার অদম্য ইচ্ছাই মূলত নেইমারকে এই সর্বোচ্চ স্তরে ফিরিয়ে এনেছে। আমেরিকার স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মাঠে তার এই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর খেলা দেখতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন তার আদরের কন্যা মাভি এবং তার মা ব্রুনা বিয়ানকার্দি। অতীতে পূর্ণ ফিটনেস না থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে তার অন্তর্ভুক্তি ও দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে ফুটবল মহলে নানা সমালোচনা ও তীব্র বিতর্ক তৈরি হলেও কোচ আনচেলত্তি তার ওপর সর্বদা পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন। অভিজ্ঞ কোচের মতে চৌত্রিশ বছর বয়সেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রতি এই বিশ্বসেরা তারকার ভালোবাসা ও আবেগ কোনো উদীয়মান তরুণের চেয়ে মোটেও কম নয় এবং এটি দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
যা কম স্পষ্ট তা হলো দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই তীব্র গতি ও শারীরিক লড়াইয়ের সাথে নেইমার তার পুরোনো চেনামুখ ও গতি কত দ্রুত পুরোপুরি ফিরে পাবেন। জাতীয় দলে সফলভাবে ফিরতে পেরে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের কথা প্রকাশ করেছেন নেইমার নিজেই। তিনি সাংবাদিকদের জানান যে দেশের ঐতিহাসিক জার্সি গায়ে জড়ানো এবং বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই ছিল তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন ও প্রধান লক্ষ্য। লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের চলমান গোল উৎসবের মাঝে নেইমার নিজের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিংড়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন ব্রাজিলের এই আক্রমণভাগের জাদুকরের পায়ের অবিশ্বাস্য জাদু দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন যা आगामी ম্যাচগুলোকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
