চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবর্তিত নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর টিভি নিশ্চিত করেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আটচল্লিশটি দলের অংশগ্রহণে এই বিশ্বমঞ্চের টুর্নামেন্টটি আমেরিকার মাটিতে আয়োজিত হচ্ছে। দল সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এবার প্রতিযোগিতার মূল কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার ফলে গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হওয়ার পরেই সরাসরি ঐতিহ্যবাহী শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব সিক্সটিনের খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে আসা সেরা বত্রিশটি দল নিয়ে শুরু হবে নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ। এই পরিবর্তিত এবং নতুন পদ্ধতির কারণে বিশ্বমঞ্চের অনেক বড় শক্তিশালী দলকে এখন চরম ভাগ্য পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
নতুন এই জটিল নিয়মের কারণে বড় ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল। বর্তমানে গ্রুপ পর্বে নিজেদের গ্রুপে চার পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পর্তুগিজরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা শক্তিশালী কলম্বিয়ার। সমীকরণ অনুযায়ী এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যদি পর্তুগাল জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয় বা ম্যাচটি ড্র হয় তবে নকআউট পর্বের শুরুতেই তাদের অত্যন্ত কঠিন যাত্রার মুখোমুখি হতে হবে। গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে উঠলে শেষ বত্রিশের লড়াইয়েই তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। সেই কঠিন বাধা পার হতে পারলে শেষ ষোলোতে দেখা হতে পারে পরাশক্তি স্পেনের সঙ্গে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে পড়তে পারে ফ্রান্স। যা কম স্পষ্ট তা হলো পর্তুগিজ রক্ষণভাগ কলম্বিয়ার গতিময় আক্রমণভাগকে কীভাবে প্রতিহত করবে।
এমন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়াতে শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের কোনো বিকল্প নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলের সামনে। যদি তারা গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে পারে তবে প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে প্যারাগুয়েকে পাওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরের ধাপে বেলজিয়াম এবং কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সমীকরণ তৈরি হবে। এই নতুন নিয়মের কারণে গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই এখন জায়ান্ট দলগুলোর জন্য একেকটি ফাইনালের মতো রূপ নিয়েছে। পর্তুগালের কোচ ও ফুটবলাররা এই সমীকরণ মাথায় রেখেই তাদের চূড়ান্ত রণকৌশল সাজাচ্ছেন। ভক্তরা আশা করছেন দলটি তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে গ্রুপ সেরা হিসেবেই পরের রাউন্ডে পা রাখবে। এর আগে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে বড় দলগুলোর ছিটকে যাওয়ার ঘটনা পর্তুগাল শিবিরকে বাড়তি সতর্ক করে তুলেছে।
