২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ রবিবার দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে শক্তিশালী দলগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নরওয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে ব্রাজিল এবং মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। নকআউট পর্যায়ের এই লড়াইয়ে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে দুই দলই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত বলে আল জাজিরা ও এপি জানিয়েছে।
ব্রাজিলের জন্য নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি অনেকটা প্রতিশোধের মিশনের মতো। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল, যার মধ্যে নরওয়ে দুটি জয় পেয়েছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে হারের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায় ব্রাজিলকে। তবে এবারের পরিসংখ্যান কিছুটা ভিন্ন কথা বলছে। অপটা সুপার কম্পিউটারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ম্যাচে ব্রাজিলই পরিষ্কার ফেভারিট। পঁচিশ হাজার বার সিমুলেশন চালিয়ে দেখা গেছে, ব্রাজিল তিপ্পান্ন দশমিক ছয় শতাংশ ম্যাচে জয়লাভের সম্ভাবনা রাখে। অন্যদিকে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা বাইশ দশমিক চার শতাংশ এবং ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চব্বিশ শতাংশ।
এদিকে মেক্সিকো সিটিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো। প্রায় ষাট বছর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে শেষবার এই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার ববি চার্লটন ও রজার হান্টের গোলে ইংল্যান্ড দুই শূন্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। সেই আসরেই ইংল্যান্ড তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। এবার দীর্ঘ সময় পর ফের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে লড়ছে তারা। ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
দীর্ঘ এই টুর্নামেন্টে এখন প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। ফ্রান্স ও মরক্কোর মতো দলগুলো ইতিমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আজকের বিজয়ী দলগুলো তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের জন্য প্রস্তুত হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। আজকের ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের সমীকরণ অনেকটা বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখবে এই দুটি ম্যাচের দিকে। বিশেষ করে ব্রাজিলের সমর্থক গোষ্ঠী ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো দলের ওপর স্থানীয় দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আজকের লড়াই শেষেই জানা যাবে শেষ আটে কারা জায়গা করে নিচ্ছে। বিশ্বকাপের এই আনন্দঘন মুহূর্তে নিরাপত্তার কড়াকড়িও রাখা হয়েছে পুরো শহরজুড়ে। এখন শুধু চূড়ান্ত বাঁশির অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
