পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন শহরে সেনাবাহিনীর অবস্থানে একযোগে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবার দেশটির উত্তর ও কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা হয়। ঘটনার পরপরই তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি আঞ্চলিক শাখা হামলার দায় স্বীকার করেছে।
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা গাও, আগুয়েলহোক, আনেফিস, সেভারে, কনিয়েরোবা, কোন্না ও সোমাদুগু এলাকায় এই হামলার মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সেভারে এলাকায় তাদের অভিযানে ২০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। গাও এলাকায় সংঘর্ষের সময় ১ জন সরকারি যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৪ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, রাশিয়া সমর্থিত আধা-সামরিক গোষ্ঠী আফ্রিকা কোরের সহায়তায় কোন্না ও সোমাদুগুতে আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত কিছু ভিডিও ফুটেজে ড্রোন হামলার দৃশ্য দেখা গেছে, তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এই ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাজধানী বামাকোর বাইরে দেশটির কনিয়েরোবা এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারাগার কমপ্লেক্সেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই কারাগারটিতে রাজনৈতিক বিরোধীদের বন্দী রাখা হয়।
মালিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই ধরনের হামলা নতুন নয়। মাত্র কয়েক মাস আগেও রাজধানী বামাকোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই গোষ্ঠীগুলো সমন্বিত আক্রমণ চালিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতার ফলে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দেশটিতে প্রায়ই সরকারি বাহিনী ও রুশ বাহিনীর অবস্থানের ওপর বিদ্রোহীরা চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে থাকে। মালির বর্তমান সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করলেও এই নতুন হামলা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালির বিশাল ভৌগোলিক এলাকা ও দুর্গম মরুভূমি অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের শক্তির মহড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
