সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং একটি ইরানি বেসামরিক বিমানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা সৌদি আরবের বেশ কিছু যুদ্ধবিমানকে শনাক্ত করেছে, যা সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ঘটনাটি ঘটার পরপরই হুথিদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় রিয়াদকে সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন কিংবা দেশের অভ্যন্তরে কোনো প্রকার আগ্রাসন চালানো হলে তার জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং স্থল ও সমুদ্রপথে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে ইয়াহইয়া সারি আরও বলেন, সৌদি শত্রুপক্ষ যেন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের দুঃসাহস বারবার না দেখায়। এটি আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয় এবং কোনো ধরনের আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। তার এই হুমকির পর থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই সতর্কবার্তার পরও হুথি মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বিমানটি শেষ পর্যন্ত সানার বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরে বিমানটি আবার তেহরানে ফিরে যায়। বিমানে করে ইরান সমর্থিত হুথি প্রতিনিধি দল সানা থেকে তেহরানে যাচ্ছিল। মূলত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে বিমানটি যাতায়াত করছিল। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে হুথিরা তাদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চাইছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই নতুন হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ বা হুমকির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিমানটি নিরাপদে ফিরে গেলেও আকাশসীমা নিয়ে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং এখন পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
