শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রয়াত লিভারপুল তারকা দিওগো জোটাকে স্মরণ করল ফুটবল বিশ্ব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

প্রয়াত লিভারপুল তারকা দিওগো জোটাকে স্মরণ করল ফুটবল বিশ্ব

ফুটবল বিশ্বের জন্য আজকের দিনটি বেশ আবেগের। ঠিক এক বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন লিভারপুলের পর্তুগিজ তারকা ফরোয়ার্ড দিওগো জোটা। কেবল তার মৃত্যুতেই থেমে থাকেনি শোকের ছায়া, একই দুর্ঘটনায় তার ভাই আন্দ্রে সিলভাও প্রাণ হারান। ঘটনার মাত্র এগারো দিন আগেই দীর্ঘদিনের সঙ্গী রুটি কারদোসার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আঠাশ বছর।

লিভারপুলের হয়ে দিওগো জোটা ছিলেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা ক্লাবটির সমর্থকদের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। রেডসদের জার্সিতে তিনি ১৮২টি ম্যাচ খেলে ৬৫টি গোল করেছিলেন। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব ছিল আলাদা। সতীর্থ এবং কোচদের স্মৃতিচারণে ফুটে ওঠে তার অমায়িক ও সহজ-সরল জীবনের গল্প।

সাবেক গোলরক্ষক কুইভিন কেলেহার বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোটার সঙ্গে কাটানো দারুণ সব মুহূর্তের কথা মনে করেছেন। কেলেহার জানান, জোটা কেবল একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। চেলটেনহামের ঘোড়দৌড় কিংবা ডার্টস খেলার প্রতি তার অদ্ভুত আগ্রহ ছিল যা একজন ফুটবলারের ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায় না। কেলেহারের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল ‘সুইট কেস’ এর সেই মজার ঘটনা, যা নিয়ে ড্রেসিংরুমে দীর্ঘক্ষণ হাসি-তামাশা হয়েছিল। মাঠের বাইরে তিনি ছিলেন প্রাণখোলা মানুষ, যা তাকে সবার প্রিয় করে তুলেছিল।

লিভারপুলের সাবেক কোচ আর্নে স্লট জোটার অকাল প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। স্লট জানান, অনুশীলনের বাইরে জোটা এমন একজন খেলোয়াড় ছিলেন যিনি দলের প্রত্যেক সদস্যের সাথে সমানভাবে মিশতেন। তিনি কখনোই নিজেকে তারকা ভাবতেন না। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর তিনি যে ছবিটি সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন, তাতে পুরো দল ও স্টাফদের দেখা গিয়েছিল। নিজের কৃতিত্বের চেয়ে দলের গুরুত্বকে তিনি সবসময় উপরে রাখতেন। আর্নে স্লটের মতে, জোটাকে সম্মান জানানোর সেরা উপায় হলো তার মতো করে দলবদ্ধ হয়ে থাকা।

মাঠের বাইরে একজন মানুষ কেমন ছিলেন, তা তার সতীর্থদের চোখের পানিই প্রমাণ করে। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি ছিলেন অনন্য। উনচল্লিশটি ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছিলেন চৌদ্দটি। সবশেষে স্পেনকে হারিয়ে নেশনস লিগ জয়ের আনন্দ সঙ্গী করেই তিনি বিদায় নিয়েছেন। জোটা আজ নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও ভালোবাসা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। তার অভাব আজও পোড়ায় সতীর্থদের, তবুও তার স্মৃতির মাঝেই ফুটবল বিশ্ব খুঁজে পায় অনুপ্রেরণা।

banner
Link copied!