ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সোমবার ভোরে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আস্তাকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড জুলিয়ান কুইনোনেস। বিবিসি স্পোর্টস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই তারকা এখন মেক্সিকোর আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা এবং ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফদের জন্য তিনি একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
সাতাশ বছর বয়সী কুইনোনেস এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনবার জালের দেখা পেয়েছেন। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এবং শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার গোলগুলো মেক্সিকোকে নকআউট পর্বে তুলে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জেতা কুইনোনেস এখন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে রয়েছেন। মেক্সিকোর খেলার গতি এবং আক্রমণে তার বাঁ প্রান্তের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য সবসময়ই বিপজ্জনক।
কুইনোনেসের জীবনসংগ্রাম অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো। কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মাগুই পায়ান নামের এক দরিদ্র ও প্রত্যন্ত গ্রামে তার বেড়ে ওঠা। শৈশবে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হওয়া কুইনোনেস এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, কঠিন পরিস্থিতি তাকে আরও বেশি লড়াকু হতে শিখিয়েছে। সতেরো বছর বয়সে নিজ দেশ ছেড়ে তিনি মেক্সিকোর ক্লাব তিগ্রেস-এ যোগ দেন। সেখানে দীর্ঘ আট বছর তিনি তিগ্রেস, আটলাস এবং ক্লাব আমেরিকার হয়ে খেলার পাশাপাশি মেক্সিকোর ফুটবল সংস্কৃতি ও পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেন।
তার ফুটবলীয় সাফল্যের পেছনে মেক্সিকোর অবদান অনস্বীকার্য। কলম্বিয়ার হয়ে যুব পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেলেও পরবর্তীতে মেক্সিকোর নাগরিকত্ব গ্রহণ করে তিনি এই দেশটির জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে মেক্সিকো তাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছিল, তা তার জীবন বদলে দিয়েছে। মেক্সিকান লিগে ছয়বার শিরোপা জেতা কুইনোনেস এখন আস্তাকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছেন।
ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগে, বিশেষ করে ডান দিকে যারা খেলবেন, তাদের জন্য কুইনোনেসকে সামলানো কঠিন হবে। তার ক্ষিপ্রতা, শারীরিক শক্তি এবং গোল করার ক্ষমতা মেক্সিকোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইংল্যান্ড সমর্থকরা তাদের দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও, কুইনোনেসের বর্তমান ফর্ম তাদের মনে কিছুটা হলেও ভয়ের উদ্রেক করছে। আস্তাকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা এবং গ্যালারির হাজার হাজার দর্শকের গর্জন ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটিকে আরও কঠিন করে তুলবে। শেষ পর্যন্ত কুইনোনেস কি পারবেন ইংল্যান্ডের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে মেক্সিকোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে সোমবার ভোর পর্যন্ত।
