জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ন্যাটোতে তার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোটের সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সাম্প্রতিক সমালোচনার পর মের্জ এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শুক্রবার এই বিষয়টি সামনে আসে যখন আগামী সপ্তাহে আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার অভিযোগ করেছেন যে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করে না। তিনি এই ভারসাম্যহীনতাকে একতরফা এবং হাস্যকর বলে বর্ণনা করেছেন।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে দাবি করেন যে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য ন্যাটো মিত্রদের তুলনায় অনেক কম ছিল। তার মতে এটি হাস্যকর। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মের্জ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে জার্মানি আগামী চার বছরের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করবে।
মের্জ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন যে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য এটিই এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা। এই ক্ষেত্রে তাদের কারো কাছে মাথা নত করার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আঙ্কারায় আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে। এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। অনেকে মনে করেন ইউরোপের এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়।
ফ্রিডরিখ মের্জের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জার্মানি তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা নীতি নতুন করে ঢেলে সাজাতে বাধ্য হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সমালোচনা ন্যাটোর ভেতরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে এই ইস্যুটি আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য ন্যাটোর ঐক্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
জার্মানি বর্তমানে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে তার সামরিক বাজেট বৃদ্ধিতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা কতটা কার্যকর হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়। মের্জের সরকার ন্যাটোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বদ্ধপরিকর। তবে ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনার বিপরীতে মের্জের এই জবাব যে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। আগামী সপ্তাহের আঙ্কারা সম্মেলনে ন্যাটোর নেতারা এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেন এবং জোটের ভবিষ্যৎ রণকৌশল কী হয়, তা দেখার জন্য বিশ্ববাসী অপেক্ষা করছে। এই বিতর্কের রেশ ধরে ন্যাটো জোটের বর্তমান অভ্যন্তরীণ ঐক্য কতটা অটুট থাকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
